সৈয়দপুরে বিদেশী ড্রাগন ফল চাষে স্বাবলম্বী কৃষি উদ্যোক্তা মানিক


তোফাজ্জল হোসেন লুতু,সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:

 নীলফামারীর সৈয়দপুরের এক পল্লীতে বিদেশী ড্রাগন ফল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে কৃষি উদ্যোক্তা মো. রাশেদুজ্জামান মানিক। ইতিমধ্যে ড্রাগন ফলের বাগান করে সফলতা পেয়ে এবং বাজারে ড্রাগন ফলের চাহিদা থাকায় তিনি তাঁর বাগানটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এছাড়াও তাঁর ড্রাফন ফল চাষ দেখে এলাকার আরো অনেকে এ ফল চাষে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।

 উপজেলার ১ নম্বর কামারপুকুর ইউনিয়নের পাখাতিপাড়ার মো. রফিকুল ইসলামে ছেলে মো. রাশেদুজ্জামান মানিক।  তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তৃতীয় মানিক। তিনি মূলত একজন কৃষক পরিবারের সন্তান। লেখাপড়া শেষে চাকরি নামের সোনার হরিণের পেছনে না ঘুরে বাবা-দাদার কৃষি কাজে মনোনিবেশ করেন মানিক। তাঁদের পৈত্রিক জমিতে ধান, পাট, সরিয়া, রসুন, পিঁয়াজসহ বিভিন্ন শাকসবজি চাষাবাদ করেন আসছিলেন তিনি। ফলে এলাকার একজন আদর্শ কৃষক হওয়ায় সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল অনেক আগে থেকেই। আর এরপরই মধ্যে গত ২০১৬ সালে তিনি ব্যক্তিগত কাজে রাজধানী ঢাকা যান। তিনি সেখানে একটি ফলের দোকানে প্রথম বিদেশী ড্রাগন ফল দেখতে পান। পরবর্তীতে তিনি বাড়ি ফিরে ড্রাগন ফলের বাগান করবেন বলে মনস্থির করেন। পরবর্তীদে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে ড্রাফন ফল বাগান করার প্রস্তাব দেওয়া হয় তাকে। তিনিও ওই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। কারণ আগেই থেকে ড্রাফন ফল বাগান করার পরিকল্পনা ও চিন্তাভাবনা ছিল তাঁর। উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এবং রংপুরের বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টারের বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্বল্প পরিসরে একটি ড্রাগন ফল বাগান করেন তিনি। বাগানে ২০১৬ সালের ৬ জুন সাদা ফ্লেশ/ পিংক স্কিন, সাদা ফ্লেশ/ ইয়েলো স্কিন এবং কালার ফ্লেশ/ পিংক স্কিন তিন জাতের ড্রাগন ফলের চারা রোপন করা হয়। ড্রাগন বাগান তৈরিতে চারা,সারসহ অন্যান্য উপকরণ সামগ্রী কৃষি বিভাগ থেকে দেওয়া হয়। এতে কৃষক মানিকের নিজের মাত্র ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। কৃষক মানিকের পাখাতিপাড়ার বাড়ির পাশে মাত্র ১০ শতক জমির বাগানে ১৬০ টি ড্রাগন ফল গাছ রয়েছে।  তিনি  কৃষি বিভাগের সার্বিক নির্দেশনা ও পরামর্শ নিয়ে নিজেই বাগানের পরিচর্যা করতে থাকেন। আর ড্রাগন ফল বাগানে রাসায়নিক পরিবর্তে নিজের তৈরি কেঁচো সার প্রয়োগ করেন। তাঁর সার্বিক পরিচর্যায় দেড় বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ২০১৮ সালে তাঁর বাগানের ড্রাগন ফলের গাছে ফুল ও ফল আসা শুরু হয়।

কৃষি উদ্যোক্তা মানিক জানান, মূলত এপ্রিল - মে মাসে ড্রাগন ফলের গাছে ফুল আসেন। আর ড্রাগন ফলের গাছের ফুল ২০-২৫ দিনের মধ্যে পরিপক্ক ফলে পরিণত হয়। অক্টোবর-নভেম্বর মাস পর্যন্ত ড্রাগন গাছ থেকে ফুল ও ফল দেয়। তিনি জানান, তাঁর বাগানে প্রতি বছর ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২০১৮ সালে ড্রাগন ফল বাগানে ফলন আসার পর থেকে চলতি ২০২০ সাল পর্যন্ত  ৯ লক্ষাধিক টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি করেছেন। প্রতি কেজি ড্রাগন ফল ৪শ’ থেকে সর্বোচ্চ ৫শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়। এছাড়াও তিনি বাগান থেকে ড্রাগন ফলের চারাও বিক্রি হয়েছে লক্ষাধিক টাকার বেশি। আগামীতে তাঁর ড্রাগন ফলের বাগান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। একই এলাকার জনৈক রফিকুল ইসলাম নামের একজন তাঁর বাগান থেকে ৬০টি চারা নিয়ে একটি বাগান করেছেন। ওই চারাগুলো মানিক সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিয়েছেন বলে জানান। তিনি চান, এলাকায় বিদেশী ফল ড্রাগন চাষ ছড়িয়ে 

পড়ুক।

 উপজেলা কৃষি বিভাগের কামারপুকুর ব্লকের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো.আসাদুজ্জামানা আশা বলেন ড্রাগন ফল সুস্বাদু ও মিষ্টি। এ ফলের চাষও খুব সহজসাধ্য। বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এছাড়া ড্রাগন চাষ করে যে কোন ফসলের তুলনায় ৩/৪ গুন বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব।  মানিকের ড্রাগন ফলের বাগান দেখে এলাকার অনেকই এখন ড্রাগন চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শাহিনা বেগম বলেন, কৃষক রাশেদুজ্জামান মানিক একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা। ইতিমধ্যে তিনি ধান,পাট, আলু, ভূট্টা, রসুন, পিঁয়াজ,বিভিন্ন রকম শাকসবজিসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনে করে জেলার শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র মাঝারী উদ্যোক্তার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাঁর ড্রাগন ফল বাগানসহ অন্যান্য ফসল চাষাবাদের সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছি। 


পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 1047762658375642522

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item