বানের পানির এমন ভয়াল রূপ তারা আগে দেখেনি


ফজলুর রহমান, পীরগাছা (রংপুর) সংবাদদাতা

গ্রামটির নাম পাঠক শিকড়। এই গ্রাম থেকে তিস্তা নদীর দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার ও ঘাঘট নদীর দূরত্ব ৮ কিলোমিটার। ফলে গ্রামের মানুষ নদী ভাঙন ও বন্যার সঙ্গে তেমন পরিচিত নয়। তবুও গ্রামটি অবহেলিত ও উন্নয়ন বঞ্চিত গ্রাম হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর গ্রামটির রাস্তাঘাটের কোন উন্নয়নই হয়নি। এখনও খানাখন্দে ভরা কাঁচা রাস্তা দিয়েই মানুষজন চলাচল করেন। গ্রামটির অবস্থান রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কান্দি ইউনিয়নে।

১৯৮৮ সালে গ্রামের মানুষ প্রথম বন্যার সঙ্গে পরিচিত হয়। ওই বন্যায় রাস্তাঘাট তলিয়ে না গেলেও কিছু বাড়িঘরে পানি ওঠে। তবে এবার ঘাঘট নদের সৃষ্ট বন্যা ১৯৮৮ সালের বন্যাকে হার মানিয়েছে। গ্রামের প্রতিটি রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। প্রায় বাড়িঘরে পানি উঠেছে। রোপা আমনসহ রবিশস্য পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে ছোট-বড় পুকুরসহ অসংখ্য মৎস্য খামারের মাছ। চারদিকে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় গ্রামের মানুষ প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। 

শুধু পাঠক শিকড় গ্রাম নয়, পাশের দাদান, পূর্বপাঠক শিকড়, কৈকুড়ী ইউনিয়নের, মকরমপুর ও সুন্দরগঞ্জের ফলগাছা, দেওডোবাসহ অসংখ্য গ্রামে বন্যা দেখা দিয়েছে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুরের পীরগাছা ও মিঠাপুকুর উপজেলার মাঝ দিয়ে ঘাঘট নদী প্রবাহিত হয়েছে। নদীটির দৈর্ঘ্য ২৩৬ কিলোমিটার। এর পানি প্রবাহমাত্রা অবস্থাভেদে ৫০ থেকে আড়াই হাজার কিউসেক। দখল হয়ে যাওয়ায় ৫০ ফুট প্রশস্ত ঘাঘট নদ এখন ১০ ফুটে এসে ঠেকেছে। ফলে টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে ঘাঘট নদীটি ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। একদিকে পার উপচে ফসলের মাঠে, লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে পানি, অন্যদিকে ভাঙছে নদ। গত পাঁচ দিন থেকে উপজেলার আটষট্টিপাড়া গ্রামসহ আশপাশের ঘাঘটসংলগ্ন গ্রামগুলোতে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে প্রায় অর্ধশত বাড়ি।

স্থানীয় লোকজন বলছে, ঘাঘটের এমন ভয়াল রূপ তারা আগে দেখেনি।

সরেজমিনে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে এ অঞ্চলে। বৃষ্টির পানি অপ্রস্থ ঘাঘট নদী দিয়ে নেমে যেতে না পেরে তা উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। কিন্তু উজান থেকে যেভাবে পানির ঢল আসছে, সেভাবে নেমে যেতে পারছে না। গ্রামগুলোর মধ্যে অপরিকল্পিতভাবে ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করায় এ সমস্যার  সৃষ্টি হয়েছে।

পাঠক শিকড় গ্রামের নাজিউর রহমান মারুফ বলেন, এই গ্রামের মানুষ এমন ভয়াবহ বন্যা আগে কখনও দেখেনি। প্রতিটি সড়কের ওপর দিয়ে হাঁটু পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বেশকিছু সড়ক ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। গ্রামটিতে প্রবেশের চারদিকে কাঁচা সড়ক। সড়ক ভেঙে গেলে উন্নয়ন বঞ্চিত গ্রামটির মানুষ চরম বিপাকে পড়বে।

স্থানীয় উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২০ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমান পানিতে তলিয়ে গেছে। ১০০ হেক্টর রবিশস্য পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার শামীমুর রহমান বলেন, ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ঘাঘট তীরবর্তী বেশীরভাগ এলাকায় রোপা আমনসহ রবিশস্য পানি নিচে তলিয়ে গেছে। এতে অনেক ফসলের ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে।


পুরোনো সংবাদ

রংপুর 637009776730436860

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item