নীলফামারীতে কৃষি জমির বালু অপসারন না করায় চাষাবাদ ব্যাহত ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক


মোঃ শামীম হোসেন বাবু,কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)ঃ নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় চাঁড়ালকাঁটা নদী খননের উত্তোলনকৃত বালু ফসলি জমিতে ফেলে রাখার কারনে ব্যাহত হচ্ছে রোপাআমনধানসহ অন্যান্য ফসলের চাষাবাদ। এতে করে চলতি মৌসুমে নদী পাড়ের কয়েকশ একর জমি অনাবাদী পড়ে রয়েছে। ফলে রোপা আমন ধানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে নদীপারের হাজার হাজার কৃষক। 
অপর দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে  বালু ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত উপজেলার ১৫ থেকে ২০ টি পয়েন্টে থেকে দিন রাত সমানভাবে অবৈধভাবে হাজার হাজার ট্রলি বালু বিক্রি করলেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা প্রশাসন। ফলে বালু বোঝাই ট্রলি যাতায়াতের ফলে গ্রামীণ সড়কগুলো চলাচলের অনুপোযোগী হওয়ার পাশাপাশি কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। 
সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সুত্রে জানা গেছে, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নীলফামারী জেলার ২৫ কিলোমিটার অংশে চাঁড়ালকাঁটা নদী খননের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে প্রায় ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। নদী খননের ঠিকাদার গত দু বছর থেকে বোমা মেশিন দিয়ে নদী খনন করে খননের উত্তোলনকৃত বালু নদী পাড়ের আবাদী জমিতে ফেলে রাখে। গত দু বছর ধরে ফেলে রাখা নদী খননের বালু অপসারন না করায় নদী পারের কয়েকশ এশর জমি অনাবাদি পরে রয়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে বোরো উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে হাজার হাজার কৃষক। 
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ উপজেলায় মোট আবাদী জমির পরিমান ১৫ হাজার ৫শ ১৮ হেক্টর। নদী খননের ফলে শুধু কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ৫০ একর জমি গত দু বছর ধরে অনাবাদি রয়েছে। দু বছরে কৃষকরা ওই জমিগুলোতে ধান ভুট্রা সহ বিভিন্ন ফসল চাষ করতো। জমিগুলো অনাবাদি থাকায় বছরে কৃষকের ক্ষতি প্রায় কোটি টাকার মতো। গত সোমবার উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, চাঁড়ালকাঁটা নদীর দুপাশ্বে কৃষকের আবাদী জমিতে নদী খননের বালু রাখা হয়েছে। এসময় একরামুল মিয়া নামে এক কৃষক বলেন, আমার ৫ বিঘা ধানি জমি ওই ৫ বিঘা জমি নদীর পারে হওয়ার কারণে নদী খননের ঠিকাদার বালু উত্তোলন করে আমার জমিতে ফেলে রেখেছে। আমি গত দু বছর ধরে ওই জমিতে চাষাবাদ করতে না পেরে পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। মোকলেছার রহমান নামে এক কৃষক বলেন , নদী খননের বালু আমাদের পৈর্তিক জমিতে ফেলা হয়েছে। অথচ সেই জমির বালু স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আয় করছে। আর আমরা ধান চাষ করতে না পেরে চাল কিনে ভাত খাচ্ছি। নদী খননের কারনে কারো সর্বনাশ কারো পৌষমাস। 
নীলফামারীর কৃষি দপ্তরের উপ পরিচালক ওবায়দুর রহমান বলেন, নদী এবং খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারী উদ্দ্যোগ অত্যন্ত ফলপ্রসু। নদী খননের ফলে কৃষি লাভবান হবে। কৃষকের যেন ক্ষতি না হয় সেজন্য কৃষকের জমিতে নদী খননের ফেলে রাখা বালু সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে দ্রত অপসারনের দাবি জানাচ্ছি।
সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী এবং কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, খুব দ্রত নদী খননের বালু অপসারনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য নীলফামারী জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত ভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। 
নীলফামারী জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, নদী খননের বালু অপসারনের জন্য ভুমি মন্ত্রণালয়ে লিখিত ভাবে জানিয়েছি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে টেন্ডারের মাধ্যমে বালু অপসারনের ব্যাবস্থা করা হবে।

পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 233967670906268143

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item