আশুরাকে কেন্দ্র করে সৈয়দপুরের কারবালা চত্বরেই ঘুরপাক খেল তাজিয়া মিছিল


ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়,নীলফামারী প্রতিনিধি।
  আজ ১০ মহররম। পবিত্র আশুরা। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে সেজে উঠেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের কারবালা ও ইমামবাড়াগুলি। রাতে স্থাপন করা হয় তাজিয়া। করোনার কারণে সীমিত পরিসরে নানান অনুষ্ঠানে অংশ নেন শিয়ারা। 

নীলফামারীর সৈয়দপুর কারবালা চত্বর গতকাল শনিবার(২৯ আগষ্ট/২০২০) সন্ধ্যা থেকে সবুজ ও লাল নিশান হাতে হাজির হন শিয়ারা। করোনার কারণে তাজিয়া মিছিল নিষিদ্ধ হলেও ইমামবাড়াগুলোয় নানা আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন নানা বয়সী মানুষ। গম্বুজ বিশিষ্ট মিনার ও দুলদুল সাজিয়ে রাত ১০টার পর তাজিয়া প্রতিস্থাপন করা হয়। শিয়া মতাবলম্বী ছাড়াও নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ মনোকামনা প‚রণে অংশ নেন প্রার্থনায়। 

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৪৪টি ইমামবাড়ায় প্রতিবছর পালন করা হয় পবিত্র আশুরা। বেশ কয়েকটি ইমামবাড়াতে তাজিয়ার পাশাপাশি দুলদুল(ঘোড়া) বসানো হয়। সব ইমামবাড়াগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। সারাদেশের চেয়ে সৈয়দপুরে একটু ভিন্নভাবে পালিত হয় মহররম মাসের কার্যক্রম।

আজ রবিবার(৩০ আগষ্ট/২০২০) সকাল থেকে কারবালা প্রাঙ্গণে ঘুরছেন মুসল্লিরা। প্রিয় হোসাইনের কথা ভেবে “হায় হোসাইন, হায় হোসাইন” বলে বুক চাপড়ে অনেকে। 


করোনাভাইরাস প্রকোপের কারণে এবার রাস্তায় তাজিয়া মিছিল বের হচ্ছে না। সীমিত আকারে একটি সংক্ষিপ্ত মিছিল কারবালা প্রাঙ্গণেই ঘুরছে। অথচ প্রতিবছর লাখো মানুষের অংশগ্রহণে এই মিছিল বের হয়। শিয়া মুসলিম স¤প্রদায়ের মানুষ এই দিনকে শোকের দিন হিসেবে পালন করেন।

৫৫ বছর বয়সী আলহাজ্ব সৈয়দ নওশাদ আনছারী সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ছোটবেলার আব্বার সঙ্গে আসতাম। কখনো তাঁদের মুখে শুনিনি তাজিয়া মিছিল না হওয়ার কথা। এবার করোনার কারণে আমরা কোণঠাসা। আমাদের সবার মন খারাপ। 

সৈয়দপুরের মিস্ত্রিপাড়ার বরকত আলী বলেন, কখনো দেখিনি এমন ছোট আয়োজন। মহররমের তাজিয়া মিছিল ছাড়া ভাবাই যায় না। কারবালার ময়দানে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ইমাম হোসাইন (রা.) জীবন দিয়ে যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তারই শোক প্রকাশে এমন আয়োজন হয় প্রতিবছর। এখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টধর্মের অনুসারীরাও আসে। করোনার কারণে এবার মানুষও কম এসেছে। 

মহররমের এই আয়োজনের ম‚ল উদ্যোক্তা শিয়ারা, তবে সুন্নিরাও এতে অংশ নেন। এমনকি সৈয়দপুরের হাতিখানায় অবস্থিত স্বরনীয় কারবালায় আসেন সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং অন্য স¤প্রদায়ের মানুষও। তেমনই একজন বংশালের বাসিন্দা আশামনি। স্বামী ও দুই মেয়েকে সঙ্গে করে ইমামবাড়ায় এসেছেন। তাঁরা প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে তাজিয়া মিছিল দেখছিলেন। তিনি বলেন, মানুষ এই দিনে এখানে আসেন। আমার মা মানত করছিল, সেই টান থেকেই আসা। আমার দাদারাও আসত। 

উল্লেখ যে, হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম (এই দিন) মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও তার পরিবার এবং অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন। কারবালার ঘটনা স্মরণ করে বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করে থাকে। শান্তি ও স¤প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাদের এই আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল রয়েছে। কারবালার শোকাবহ এ ঘটনা অর্থাৎ পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী সবাইকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা জোগায়। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সৈয়দপুর সার্কেল) অশোক কুমার পাল বলেন, এখানকার ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। এবার থাকছেনা তাজিয়া মিছিল। সামাজিক দ‚রত্ব মেনে যাবতীয় অনুষ্ঠানাদি স¤পন্ন করবেন তারা। এছাড়াও পবিত্র আশুরা উপলক্ষে, সৈয়দপুর শহরের সব মসজিদে থাকছে মিলাদ মাহফিল ও জিকির আজগর। আশুরা উপলক্ষে সৈয়দপুর থানা পুলিশের থাকছে কড়া নিরাপত্তা। # 


পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 5728065155411891533

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item