পীরগাছায় পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক


ফজলুর রহমান,পীরগাছা(রংপুর)ঃ
রংপুরের পীরগাছায় গত কয়েক বছরে পাট চাষ করে ন্যায্যম‚ল্য পায়নি কৃষক। তাই পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে কৃষকরা।
জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও উপজেলা হাজার হাজার একর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে কমতে কমতে চলতি মৌসুমে পাট চাষ হয়েছে মাত্র ৪শ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে তোষা পাট ৩শ ৩৫ হেক্টর ও দেশি পাট ৬৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। ম‚লত চাষের খরচ বৃদ্ধি, শ্রমিক সংকট, পানির অপ্রতুলতা এবং ন্যায্যম‚ল্য না পাওয়ায় পাট চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন পাট চাষীরা। অপরদিকে পাট চাষে উদ্বুদ্ধ করতে নেই তেমন কোনো সরকারি-বেসরকারি পদক্ষেপ। 
অনেক কৃষক জানায়, সোনালি আঁশ পাটের চাষ বাড়াতে পাট অধিদফতরের লোকজন কাজ করলেও উপজেলার মাঠ পর্যায়ে পাট চাষে আগ্রহ বাড়াতে কর্মকর্তাদের তেমন কোন তৎপরতা দেখা যায়না। 
উপজেলা কৃষি অফিস স‚ত্রে জানা গেছে, উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে ৪শ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। উপজেলার জগজীবন ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হক জানান, তার ব্লকে এবার ২০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। শুধু তার ব্ল­কেই নয়, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৭ টি ব্লকেই ব্যাপক হারে কমেছে পাট চাষ। পাট চাষীরা জানাচ্ছেন, সরকারি ব্যবস্থাপনা থাকলেও এ উপজেলায় পাট কেনার ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এখনও বহু চাষী ফরিয়া পাইকারের কাছে পাট বিক্রি করেন। তাছাড়া গ্রামাঞ্চলে জ্বালানি হিসেবে পাটকাঠির নির্ভরতাও কমে যাচ্ছে। তাই বংশানুক্রমে পাট চাষের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সম্প্রতি পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়েছেন চাষীরা। গাবড়ার চর গ্রামের পাটচাষী আকবার আলীসহ এলাকার অনেক পাট চাষী বলেন, পাট বিক্রি করে খরচ অনুপাতে দাম পাওয়া যায় না। তার চেয়ে জমিতে বাদাম কিংবা ভুট্টা চাষ করে ভালো লাভ পাওয়া যাচ্ছে। তাই কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। 
কৃষকদের অভিযোগ, আলুর বস্তা, ধানের বস্তা সব পলিথিনের হয়ে যাচ্ছে। হাটবাজারে পাটের ব্যাগের পরিবর্তে পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার হচ্ছে। পাট চাষে শ্রমিকের মজুরি, জমি চাষ, বীজ কেনা, সেচ দেয়া, আগাছা পরিষ্কার, পাট কাটা ও জাগ দেয়া, আঁশ ছড়ানো, শুকিয়ে বাজারজাত করাসহ সব কিছুতে আগের তুলনায় খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। সে অনুপাতে পাটের দাম নেই। বেশ কয়েক বছর থেকে পাট বিক্রি করে লোকশান গুনতে হচ্ছে। ফলে পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক। 
তাম্বুলপুর গ্রামের পাট চাষী শহিদুল ইসলাম বলেন, একসময় রংপুর অঞ্চলে ব্যাপক পাটের চাষ হতো। বর্তমানে আবাদ কমে গেছে। পলিথিন ব্যাগের ব্যবহারে পাট খাতে ধস নামতে শুরু করে আর আশঙ্কাজনক হারে কমতে থাকে পাটের দাম। ফলে কৃষক পাট চাষের উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে। তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে সোনালি আঁশ পাট চাষ বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকারের উদ্যোগ প্রয়োজন তা না হলে আগামীতে পাটের চাষ হ্রাস পাবে। 
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. শামীমুর রহমান জানান, কৃষকরা পাটের পরিবর্তে বাদাম, ভুট্টা ও আউশ ধান আবাদে লাভবান হচ্ছেন। ফলে পাটের চাষ কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, পাট অধিদফতরের কর্মকর্তারা মাঝে মাঝে এসে কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেয়। সেই সঙ্গে কৃষি বিভাগ থেকে পাট চাষে চাষীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। আগামীতে পাটের আবাদ বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পুরোনো সংবাদ

রংপুর 2637927924921267828

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item