তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপরে॥ বসতবাড়ি ও ফসলি জমি প্লাবিত

ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়,ডালিয়া থেকে॥
উজানের ভারী বৃস্টি ও গজলডোবা হতে প্রচুর পানি ছেড়ে দেয়ার জেরে তিস্তা নদী আজ শনিবার(১১ জুলাই/২০২০) রাত ৯টায় তিস্তা নদীর পানি নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৬০) ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বন্যায় উত্তরের নীলফামারী জেলার তিস্তা অববাহিকার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার অসংখ্য বসতবাড়ি ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। এদিকে তিস্তার গর্জন ও শোঁ-শোঁ শব্দ তিস্তাপাড়ের নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার চর,চরগ্রাম ও লোকালয় কাঁপিয়ে দিয়ে ভাটির দিকে ধাপিত হচ্ছে। দুই উপজেলার প্রায় ১০ হাজার পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। তাদের মাঝে শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ল্যাট্রিনের সংকট দেখা দিয়েছে। দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রেখেও উজারে ঢলের চাপ নিয়ন্ত্রন করা যেন কঠিন হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা তিস্তাপাড়ের জরুরী অবস্থা ঘোষনা দিয়ে লালসংকেট জারী করেছেন। পাশাপাশি মাইকিং করে তিস্তাপাড়ের পরিবারগুলোকে নিরপদে আশ্রয় নিতে বলা হয়।
পানি উন্নয়ন বোডের ডালিয়াস্থ্য বন্যাপূর্বাভাস ও সর্তকীকরন কেন্দ্র সুত্র জানায়, গতকাল শুক্রবার(১০ জুলাই/২০২০) রাত ৯টায় ওই পয়েন্টে তিস্তা বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবহিত হয়। আজ শনিবার বিপদসীমার পানি প্রবাহ ১১ সেন্টিমিটার কমলেও দুপুর ১২টায় সেটি পুনরায় বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।
সূত্রমতে, আজ শনিবার সকাল ১০টায় ভারতের দো-মহনী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার (৮৫ দশমিক ৯৫) ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসছে। ভারতের এই পয়েন্টে গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে ৯টায় বিপদসীমা বরাবর প্রবাহিত হয়ে এসেছিল। তাতেই বাংলাদেশের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার সর্বচ্চো ৩৫ সেন্টিমিটার ওপরে উঠেছিল। আজ শনিবার ভোর থেকে ভারতের দো-মহনী পয়েন্টে পানির প্রবাহ গতকালের চেয়ে বেশী বলে নিশ্চিত করা হয়। সকাল ১১টায় ৩ সেন্টিমিটার ওপরে থাকার পর দুপুর থেকে তা কমতে শুরু করে সন্ধ্যা ৭টায় বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নীলফামারীর ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বেশী খারাপ হলে লাল সংকেট দেয়া হবে। আপাতত হলুদ সংকেত জারী করা হয়েছে। তিনি বলেন, তিস্তা ব্যারাজের ফাড ফিউজ (ফাডবাইপাস) এলাকাটি কর্মকর্তারা নজরদারী করছে। তিস্তা ব্যারাজের ফাড ফিউজ এলাকার উজান ও ভাটি এলাকায় বসবাসকৃত পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
এদিকে উজানের ঢলে তিস্তায় চতুর্থ দফায় ভয়াবহ বন্যায় তিস্তা অববাহিকায় নতুন করে ৭ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চরবেষ্টিত গ্রামের মানুষজনকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ৬ ইউনিয়ন, পূবছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশাচাঁপানী ও ঝুনাগাছচাঁপানীর ইউপি চেয়ারম্যান গন জানায় তিস্তায় ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃস্টি করছে। ডিমলার কিছামত ছাতনাই, ঝাড়শিঙ্গেশ্বর, চরখড়িবাড়ি,পূর্ব খড়িবাড়ি, পশ্চিমখড়িবাড়ি, তিস্তাবাজার, তেলিরবাজার, বাইশপুকুর, ছাতুনামা, ভেন্ডাবাড়ি এলাকার পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সেখানকার মানুষজন গরু ছাগল, বাক্সপোটরা নিয়ে নিরাপদে সরে গেছে।
অপরদিকে জেলার জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি,গোলমুন্ডা, শৌলমারী, কৈমারী এলাকার ৩ হাজার পরিবার বন্যাকালিত হয়েছে। সেই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় দুই উপজেলার অসংখ্য ফসলী জমির আমন বীজতলা, রোপিত আমনের রোপা তলিয়ে গেছে। বসতঘরগুলোতে প্রকারভেদে হাটু ও কোমড় সমান পানির স্রোত বয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া মাছের খামারগুলোর পুকুরগুলো উপচে পড়ায় প্রচুর মাছ ভেসে গেছে।
ডিমলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায় জানান, আমরা প্রতিটি এলাকার মনিটরিং করছি। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তিস্তা অববাহিকার চর ও চর গ্রামের পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। উজানের ঢল কমে গেলে তিস্তা নদীর বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তবে উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে তিস্তা নদীর বন্যা আরও ভয়াবগতার রূপ নিতে পারে বলে পানি উন্নয়ন বোড সর্তকতা দিয়েছে।

পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 15452686915643917

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item