সৈয়দপুরে চারশত পরিবার ভিজিএফ চাল হতে বঞ্চিত॥বিক্ষোভ

বিশেষ প্রতিনিধি॥
অবিশ্বাস হলেও সত্য,নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নে কার্ডধারী স্লিপের মাধ্যমে ৯ হাজার ৯৯৮ জন হিসাব অনুযায়ী ১০ কেজি করে চাল বিতরন দেখানো হলেও চারশত কার্ডধারী স্লিপ হাতে ঘুরছে। তারা কেউ চাল পায়নি। 
আজ বুধবার(২৯ জুলাই/২০২০) এমন ঘটনা নিয়ে তোলপাড় সৃস্টি হয় ওই ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে। এতে ভিজিএফের চাল বঞ্চিতরা বিক্ষোভ শুরু করলে ইউপি চেয়ারম্যান বাজার থেকে চাল কিনে আগামী দুইদিনে কার্ডধারীদের মাঝে বিতরন করবেন বলে ঘোষনা দেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ আবু হাসনাত সরকার ও চাল বিতরনের ওই ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মশিউর রহমান।
জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ও পৌর এলাকায় অসহায় পরিবার গুলোর জন্য সরকারী ভাবে পরিবার প্রতি ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নে কার্ডধারী স্লিপের সংখ্যা ৯ হাজার ৯৯৮টি। ফলে ওই সংখ্যক পরিবার ১০ কেজি করে চাল পাবে। ২৭ জুলাই(সোমবার) বরাদ্দের চাল সরকারী খাদ্যগুদাম হতে ইউপি চেয়ারম্যান উত্তোলন করে ইউপি ভবনের গুদামে মজুদ রেখে ২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) থেকে চাল বিতরন শুরু করেন।  
ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ এনামুুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বললেন, গতকাল মঙ্গলবার ও আজ বুধবার দুইদিনে ৯ হাজার ৯৯৮ জনকে ১০ কেজি করে চাল বিতরন করা হয়। কিন্তু চারশত পরিবার চাল পায়নি বলে স্লিপ হাতে দাবি করছে এটি আমি বুঝে উঠতে পারছিনা। ইউপি চেয়ারম্যান জানান, হয়তো  দেড়শ পরিবারের চাল পায়নি। এটি চারশত হবার কথা না। 
ট্যাগ অফিসার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ মশিউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি আমরা তদন্ত করে দেখছি। বিতরণকৃত চালের স্লিপগুলো সংরক্ষিত রয়েছে। আমরা তা জব্দ করে গননা করবো। 
সৈয়দপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ আবু হাসনাত সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ৪০০ পরিবার কেনো চাল পেলনা তার জবাব ইউপি চেয়ারম্যান জানাতে পারেনি। তিনি যদি আগামী একদিনের মধ্যে ওই সকল কার্ডধারীদের মাঝে চাল বিতরন না করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোখছেদুুল মোমিন সাংবাদিকদের বলেন, এবার উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ভিজিএফ’র চাল এলএসডি গোডাউন থেকে একযোগে উত্তোলন করতে হবে এবং তা ২/৩ দিনে বিতরণ করবে ইউপি চেয়ারম্যানরা। সে অনুযায়ী ২৭ জুলাইয়েই চাল ইউপি ভবনে চলে গেছে। কিন্তু তারপরও ২৯ জুলাই এসেও মানুষ চাল পাচ্ছেনা। এটাই প্রমান করে যে অসৎ উদ্দেশ্যে চাল পাচার করা হয়ে থাকতে পারে। অবশ্যই তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমুলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসিম আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি জানার পর এ বিষয়ে লিখিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে ওই ইউনিয়নের দায়িত্ব প্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারকে। প্রতিবেদনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। #

পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 8412489467950121995

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item