নীলফামারীতে সিনেমা স্টাইলে চুরি॥ টার্গেট ঔষুধের দোকান ও বাড়ি


নীলফামারী প্রতিনিধি॥ করোনা সংকটকালে হয়ে পড়েছে অনেকে বেকার। চাকুরি থেকে ছাটাই। কর্মহীন হয়ে বাড়িতে বসে আসে। নেই কোন আয় করার পথ। ঠিক এমনি সংকটকালে বাড়তে শুরু করেছে চুরি-ছিনতাই-ডাকাতী। গভীর রাতে দল বেধে নামছে চোর চক্ররা। চুরির কাজে ব্যবহার করছে ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস, গাড়ি।
সিনেমার স্টাইলে মাইক্রোবাসকে কখনও রূপ দিচ্ছে এ্যাম্বুলেন্সের, আবার কখনও রূপ দিচ্ছে সরকারি জরুরী কাজে ব্যবহৃত বাহন হিসেবে।
ঠিক তেমনি সিনেমার স্টাইলে একটি মাইক্রোবাসকে এ্যাম্বুলেন্সের রূপ দিয়ে নীলফামারী শহরে গভীর রাতে ঔষুধের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব চুরির ঘটনায় চোর হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।
ঔষুধ ব্যবসারীরা জানায়, গতকাল বুধবার(২৯ জুলাই) গভীর রাতে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে মুনলাইট ও মাহির ফার্মেসি নামে দুইটি ঔষুধের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে ঘরের টিনের ছাউনি কেটে চোর ভেতরে প্রবেশ ক্যাশ বাক্স ভেঙ্গে মুন লাইটের আড়াই লাখ এবং মাহির ফার্মেসির ছয় হাজার টাকা নিয়ে যায়। এর আগে একইভাবে ১১ জুলাই রাতে শহরের গাছবাড়ি এলাকার সানু ফার্মেসি থেকে ২০ হাজার এবং দুই মাস আগে চৌরঙ্গী মোড়ের সেবা ফার্মেসি থেকে দুই লাখ টাকা চুরির ঘটনা ঘটে।
তাদের অভিযোগ, এসব ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হলেও কোন প্রতিকার মেলেনি।
জেলা কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতির পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান সবুজ জানান, করোনাকালের এ সময়টাতে চোরের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে ওষুধের দোকান। জেলা শহরে চারটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা ঘটেছে একই কৌশলে। তারা দোকানের ঔষুধ নিচ্ছে না, শুধুমাত্র নিয়ে যাচ্ছে দোকানে রক্ষিত টাকা। এসব ঘটনায় সেবা ফার্মেসির মালিক সাজ্জাদুর রহমান, সানু ফার্মেসির মালিক সাজেদুর রহমান ওয়ারেসি ও মুনলাইটের পরিচালক মোফাজ্জল হোসেন থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলেও কোন প্রতিকার মিলছে না।
এমন একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা শহরের আতঙ্ক বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মনে। এই বিষয়ে শহরের কালিবাড়ি মোড়ের নাইট গার্ড হামিদুর রহমান জানান, রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে কালিবাড়ি মোড়ের বাতিঘর দোকানের সামনে একটি সাদা রঙের এ্যাম্বুলেন্স দাড়ায়। ১০মিনিট ধরে এ্যাম্বুলেন্সটি দাড়িয়ে ছিল এবং ভিতর থেকে কেউ বাহির হয়নি। এ্যাম্বুলেন্সটির কাছে গিয়ে দেখতে পারি ভিতরে ৬-৭জন লোক তবে কোন রোগী নেই। আমি জিজ্ঞাসা করলে তাৎক্ষনিক গাড়িটি বড় বাজারের দিকে ঘুরিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। কিছুক্ষণ পরে এ্যাম্বুলেন্সটি আবার এসে কালিবাড়ি মোড় দিয়ে সবুজপাড়ার ভিতরে দিয়ে আনন্দবাবুরপুলের দিকে যায়। কিছুক্ষণপর আবারও সেই এ্যাম্বুলেন্সটি পৌর মার্কেটের রাস্তা দিয়ে এসে আবারও সবুজপাড়ার ভিতরে যায়। আমি মনে করি হয়তো এ্যাম্বুলেন্সটি কোন রোগীর বাড়ি খুঁজছে। পরে আর এ্যাম্বুলেন্সটি আসেনি। সকালে শুনতে পাই দুইটি ঔষুধের দোকানে চুরি হয়েছে। তাহলে কি চোরেরা সেই এ্যাম্বুলেন্সে ছিল।
আনন্দবাবুরপুলের নাইটগার্ড আমিনুর জানায়, রাতে এদিক দিয়ে ৩বার একটি সাদা রঙের এ্যাম্বুলেন্স গেছে। মনে করি কোন রোগীর বাড়ি খুঁজছে।
এদিকে শহরের অনেক সচেতনমহল ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন চোরেরা ভোরের দিকে ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে চুরি করে। মাঝে মাঝে রাতে টুকটাক কিছু শব্দ পাওয়া যায়। দেখতে গেলে ট্রাক, পিকআপ ঠিক করছে চালক ও হেলপার। সকালে শোনা যায় দোকান চুরি হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বাসাবাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত।
এবিষয়ে নীলফামারী সদর থানার ওসি মমিনুল ইসলাম বলেন, এসব চুরির ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরায় তাদেরকে দেখতে পাওয়া গেলেও তাদের মুখে মুখোশ ছিল এবং সিসি ক্যামেরা সামনে আসে চলাচলও করেনি। তবে জড়িতদের চিহিৃত করে আইনের আওতায় আনতে জোর প্রচেষ্টা চলছে।

পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 76796774399051411

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item