তদবির ছাড়া মিলছে না করোনা পরীক্ষার ফল

পীরগাছা(রংপুর)প্রতিনিধিঃ
করোনার হটস্পট হয়ে ওঠা রংপুরের পীরগাছায় তদবির ছাড়া নমুনা পরীক্ষার ফল মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। নমুনা দেওয়ার ১৫ দিন পরেও ফল না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছে ভুক্তভোগীরা। তবে ব্যক্তিগত তদবিরের মাধ্যমে কয়েকজন রিপোর্ট পেয়েছে বলে জানা গেছে। নমুনার ফল পেতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেকে হোম কোয়ারেন্টিন মানছে না। এতে তারা পরিবারসহ বাইরের লোকজনের সংস্পর্শে আসছেন। ফলে উপজেলাজুড়ে ব্যাপকহারে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলায় গত ১০ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত পূর্বের সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করে ১৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। ১১ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত ৩৯ জনের নমুনা সংগৃহীত হলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ মাত্র আটজনের ফল পাওয়া যায়। এর মধ্যে অন্তত পাঁচজন তদবিরের মাধ্যমে নমুনা পরীক্ষার ফল হাতে পেয়েছে। সর্বশেষ গত সাত দিনে কোনো রিপোর্টই আসেনি। জেলার অন্যান্য উপজেলার সংগৃহীত নমুনা নিয়মিত পরীক্ষা করা হলেও পীরগাছা উপজেলার নমুনা পরীক্ষায় ঢিলেঢালাভাব প্রথম থেকেই চলে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বৈষম্যেরও অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সচেতন লোকজন।
তারা বলছেন, এক সপ্তাহ আগেও রংপুরের আট উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমিত উপজেলা ছিল পীরগাছা। অথচ সেই উপজেলায় গত সাত দিনে কোনো নমুনা পরীক্ষার ফল পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার গুয়াবাড়ি এলাকার এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন আগে করোনা পজিটিভ হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দ্বিতীয় নমুনা পরীক্ষায়ও তার করোনা পজিটিভ আসে। কিন্তু তৃতীয় নমুনা পরীক্ষার ফল মিলছে না। শুধু ওই ব্যক্তিই নন, করোনা পজিটিভ হওয়ার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় নমুনা পরীক্ষার ফল না পেয়ে অনেকে হোম কোয়ারেন্টিন মানছে না। নতুন নমুনা দেওয়া ব্যক্তিরাও বিপাকে পড়েছে। তারা রিপোর্ট পেতে নিয়মিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় করছে।
অনেকে নিজেকে সুস্থ মনে করায় রিপোর্টের আশা ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক চলাফেরা করছেন। নানা প্রয়োজনে হাটবাজারসহ বাইরেও যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তারা করোনা পজিটিভ হলে অন্যদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ১ মে উপজেলায় প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এক ব্যক্তি মারা গেছেন। অন্যদিকে উপজেলাজুড়ে ৩৩ জন আক্রান্ত হলেও এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১০ জন। মোট ৩৮৩ জনের নমুনা সংগৃহীত হলেও ফল পাওয়া গেছে ৩৫২ জনের। এ ছাড়া উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন এক ব্যক্তি।
নমুনা দিয়ে ফল না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়া আজাদুল ইসলাম বলেন, নমুনা দেওয়ার ১৫ দিন পরেও রিপোর্ট না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে স্বাভাবিক চলাফেরা করছি। তবে আতঙ্ক সব সময় মনের মধ্যে থাকছে। সাইফুল ইসলাম নামে একজন বলেন, নমুনা দেওয়ার ১০ দিন পর রিপোর্ট পেয়েছি। এই সময়ে অফিস করতে হয়েছে। সহকর্মীদের সঙ্গে মাঠপর্যায়েও কাজ করেছি। আমার করোনা পজিটিভ জানার পর সহকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিলেও গত ১৪ দিনও রিপোর্ট মেলেনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সানোয়ার হোসেন বলেন, নমুনা পরীক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেক সময় রিপোর্ট পেতে দেরি হচ্ছে। রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায় বলেন, প্রতিদিন যে হারে পরীক্ষা হচ্ছে তার তুলনায় রিপোর্ট বেশি জমা হচ্ছে। এতে ফলাফল আসতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে রিপোর্ট প্রাপ্তির ক্ষেত্রে তদবিরের সুযোগ নেই।###

পুরোনো সংবাদ

হাইলাইটস 3768495519520002258

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item