নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জের মাগুড়া ইউনিয়ন পাকাবাড়ি ২০ বিঘা কৃষি জমির মালিকের নাম আড়াই হাজার টাকায়

নীলফামারী প্রতিনিধি\
নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রণোদনার আড়াই হাজার টাকার তালিকায় সম্পদ শালির নাম নিয়ে তোলপাড় সৃস্টি করেছে। এতে দরিদ্রদের বঞ্চিত করে সম্পদ শালীদের সুবিধা প্রদান করা নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (২ জুন) ওই অভিযোগ মতে, আড়াই হাজার টাকার সুবিধাভোগীর সংখ্যা একহাজার ৭৩ জন। মাগুড়া ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রণোদনার তালিকায় পাকা বাড়ি, ১৫ থেকে ২০ বিঘা কৃষি জমির মালিক, স্বচ্ছল ব্যবসায়ীর নাম অর্ন্তভুক্ত করে ইউপি চেয়ারম্যান।
 ইউপি চেয়ারম্যান মাহামুদুল হোসেন শিহাব নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন অনিয়ম দ‚র্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তার অনিয়ম ও দ‚র্নীতে সরকারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার সাধারণ মানুষ। এসব অভিযোগ তুলে এলাকার ৬৮৮ জন স্বাক্ষরিত অভিযোগ পত্র দাখিল করেন জেলা প্রশাসকের কাছে।
ওই অভিযোগে স্বাক্ষরকারী ইউনিয়নের মাগুড়া মাস্টারপাড়া গ্রামের কৃষক তাজুল ইসলাম (৫০) বলেন,“এবারের করোনা পরিস্থিতিতে বেহাল দশা মানুষের। এ অবস্থা কাটানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করেনে। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যানের দ‚র্নীতিতে সেসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত এলাকার মানুষ। সবশেষ তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রনোদনার আড়াই হাজার টাকার তালিকায় নিজস্ব লোকজনের নাম অন্তভুক্ত করেছেন।
প্রণোদনার তালিকায় ২৫০ নম্বরে নাম রয়েছে ইউনিয়নের পাটোয়ারীপাড়া গ্রামের আব্দুল হাই নামে এক কৃষকের। ওই কৃষকের দেড় বিঘা জমির ওপর রয়েছে আধাপাকা বাড়ি। কৃষি জমি রয়েছে ২০ বিঘার উর্দ্ধে। এবারে আট বিঘা জমিতে ভুট্টা ও আট বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন বোরো ধান। রয়েছে হলুদ, আদার আবাদ। স্থানীয়রা এসব তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে জানান সম্পর্কে আব্দুল হাই ইউপি চেয়ারম্যানের চাচা শ্বশুর।
২৬৬ নম্বরে নাম থাকা আব্দুল মতিন আব্দুল হাইর ছোট ভাই। তারও রয়েছে আধাপাকা বাড়িসহ প্রায় ২০ বিঘা কৃষি জমি। সম্পর্কের দিক থেকে তিনিও ইউপি চেয়ারম্যানের চাচা শ্বশুর। ২৭০ নম্বরে নাম থাকা সরকারপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামও একজন স্বচ্ছল ব্যক্তি। ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যানের পক্ষে লোক বলে তালিকায় নাম উঠেছে তার। একই গ্রামের ২৬৭ নম্বরে নাম থাকা শরিফুল ইসলাম একজন হোটেল ব্যবসায়ী। পরিবারের স্বচ্ছলতা থাকলেও তালিকায় নাম উঠেছে তার। ওই গ্রামের ১৮৮ নম্বরে নাম থাকা মিন্টু মিয়ার স্ত্রী ময়ছেনা বেগমের নামে রয়েছে ভিজিডি কার্ড। যার নম্বর ১৫৫।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মাহামুদুল হোসেন শিহাব বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সহায়তার আড়াই হাজার টাকা যারা পাওয়ার যোগ্য তাদের নামই অন্তভুক্ত করা হয়। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন আমার আতœীয়স্বজদের মধ্যে যারা গরীব তাদের নাম তালিকায় দেয়া কি অন্যায়।করোনা ভাইরাসে সরকারের দেয়া ত্রান ইউনিয়নের প্রায় দেড় হাজার মানুষ পেয়েছে। চাল বিতরন যেমন সঠিকভাবে বিতরন করা হয় তেমনি প্রধান মন্ত্রীর সহায়তার তালিকাও সঠিক ভাবে করা হয়েছে। কোন ইউপি সদস্য যদি কোন জমিওয়ালা বা পাকাবাড়ির কৃষককের তালিকা দিতে পারেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তার অর্থ তালিকাধারীদের মোবাইল ব্যাংকিকে আসছে বলে জানতে পেরেছি।
জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি দ্রæত তদন্ত করে কিশোরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।#


পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 2951919109585070019

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item