ঝড়ে তছনছ পানি উন্নয়ন বোড অফিস দেখতে আসেন না কর্মকর্তারা

কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)সংবাদদাতাঃ
ঝড়ে অফিস ক্যাম্পাস তছনছ হলেও একটিবারের জন্য কেউ দেখতে আসেনি। তার উপর টানা ৬৬ দিন বন্ধের পর  রবিবার  খুলেছে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। কিন্তু না এই অফিসে কেউ আসেনি। এই হালের চিত্র রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা মেলে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়টি। সেখানে তালা ঝুলতে দেখা যায়। এলাকাবাসী ও কৃষকরা জানায় করোনা ভাইরাসের কারনে গত ২৫ মার্চ থেকে সরকারি ছুটি ঘোষনা করা হয়। এরপর থেকে অফিসে আর কাউকেই দেখা যায়নি।
সুত্র মতে ঈদুল ফিতরের আগের দিন রাতে এলাকায় প্রচন্ড দমকা বাতাস সহ ঝড় বয়ে যায়। ওই ঝড়ে এলাকার ব্যাপক ক্ষতি হয়। এমনকি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উক্ত কার্যালয়ের প্রায় ১৫ একর জমির উপর নির্মিত উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়টির চত্বরে থাকা মূল্যবান অসংখ্য গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে অফিস চত্বরটি তছনছ হয়। এরপরেও কেউ অফিসে এনে পরিস্থিতি দেখে যায়নি।।
তার উপর  টানা ৬৬ দিনের ছুটি শেষে রবিবার সরকারি অফিস খুললেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই অফিসে  কেউ অফিসের তালা খুলতে আসেননি। এমন কি ঝড়ে ভেঙ্গে পড়া গাছপালা অপসারনে কাউকে দেখা যায়নি।
 এদিকে সকাল থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়নি উক্ত কার্যালয়ের কোন প্রকৌশলী সহ কর্মকর্তা , পিয়ন বা দারোয়ানকে।
নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের সেচ কার্যক্রম পরিচালনা ও রক্ষাবেক্ষনের জন্য কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় পানি উন্নয়নের বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয় স্থাপন করা হয়। এই অফিসের মাধ্যমে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার, রংপুর জেলার তারাগঞ্জ ও গঙ্গাচড়া উপজেলার কৃষকরা সেবা পাবেন। ওই সকল এলাকার কৃষদের অভিযোগ অফিসে এসে কাউকে পাওয়া যায়না। ফলে তারা সেচ পেতে বিভিন্নভাবে হয়রানীর শিকার হয়ে আসছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে  কিশোরগঞ্জ উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিসে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রংপুর -১ ,উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নীলফামারীর সৈয়দপুর-২ এর কার্যালয়। এই দুই প্রকৌশলীর পাশাপাশি এখানে পোষ্টিং রয়েছে ৬ জন সহকারী প্রকৌশলী(এসও), ৪ জন অফিস সহকারি, ১৬ জন কার্যসহকারি, ৪ জন সার্ভেয়ার, ১০ জন এমএলএস (পিয়ন),২ জন দারোয়ান,২ জন নৈশপ্রহরীর।
এলাকাবাসী জানায় বাস্তবতায় এরা কেউ নিয়মিত অফিস করেননা। দারোয়ান ও নৈশ প্রহরীদের খোজ নিতে গেলে দেখা যায় তারাও অফিসে ক্যাম্পাসে নেই।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কার্যলয়ের প্রবেশদার থেকে পুরো চত্বর ঝড়ে ভেঙ্গেপড়া গাছপালায় তছনছ হয়ে পড়ে রয়েছে। এলাকার কিছু লোকজন যে যেভাবে পারছে ভেঙ্গেপড়া গাছের ডালপালা কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা নাগরিক কমিটির সাধারন সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সাজু অভিযোগ করে বলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই অফিসের যেন কোন বাবা মা নেই। এখানকার প্রকৌশলী নিয়মিত অফিস করেননা।  এলাকার কৃষকরা এই অফিসের মাধ্যমে পায়না কোন সেবা। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করা প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে কথা বলা হয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী (রংপুর) জ্যোতি প্রসাদ ঘোষের সঙ্গে। তিনি জানান বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি দেখে কর্মরতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে উল্লেখ করেন।#

পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 6032178160595709734

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item