মুখ থুবড়ে পড়েছে ডোমারের বাঁশ শিল্প

এ.আই.পলাশ.চিলাহাটি প্রতিনিধিঃ

অপ্রতুলতা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবে বিলুপ্ত হতে চলেছে ডোমারের বাঁশ শিল্প। বর্তমান বাজারে প্লাস্টিক পণ্য সামগ্রীর সঙ্গে পাল­া দিয়ে টিকে থাকতে না পেরে মুখ থুবড়ে পড়েছে এককালের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প। অপরদিকে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য ম‚ল্য না পাওয়ায় অভাব-অনটনের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন বাঁশ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো। পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকতে তারা এ পেশাকে ছেড়ে অন্য পেশায় ঢুকে পড়ছেন। ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্মটি দেশ থেকে বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলায় পুরুষদের পাশাপাশি বাঁশ শিল্পের সাথে তিন শতাধিক নারী জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া পরিবারের মেয়ে সন্তানরাও এ কাজে সহায়তা করত। বাঁশের কাজ করে নারীরা স্বাবলম্বী ছিলেন এবং তাদের কাছে জমাকৃত টাকা মেয়ের বিয়ে কিংবা স্বামী-সংসারের প্রয়োজনীয় অন্য কাজে লাগাতেন। এখন কাজ না থাকায় ওই নারী শিল্পীরা বেকার হয়ে পড়েছেন। উপজেলার কেতকীবাড়ি ইউনিয়নের চান্দখানা বোতলগঞ্জ এলাকার বাঁশ শিল্পী মৃত-উপেন হাজরার পুত্র জিতেন হাজরা পেত্তাউ (৫৫) তার বাপ-দাদার ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য এই ব্যবসা করে আসছে।
তিনি জানান, “আগে একটা বাঁশ ১০/১৫ টাকায় পাওয়া যেত। একটি বাঁশ দিয়ে ৫ টি ডালি তৈরী করা হতো। ডালি তৈরীর পাশাপাশি, কুলা, চাইলন, চাঙ্গাই, খুচি, মাছ মারা টেমাই, ঝোঁকা ইত্যাদি জিনিস তৈরী করা হতো। সেগুলো বিক্রি করে দিব্বি তাদের সংসার আরাম-আয়েশেই চলত। বর্তমানে একটি মাকলা বাঁশের দাম ১৫০/২০০ টাকা। ২ জন ব্যক্তি ২ দিন পরিশ্রম করার পর, ৫ টি ডালি তৈরী হয়। এতে ২ দিনের পারিশ্রমিক দিতে হয় ১২০০ টাকা এবং ১ টি ডালি ১৫০/২০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। পারিশ্রমিক বেশি হওয়ার কারনে আমি এবং আমার স্ত্রী মিলেই এই কাজগুলো করি। সেই কারনেই পারিশ্রমিকের টাকাটা বেঁচে যায়। শুধু বাপ-দাদার ঐতিহ্যটাকে টিকে রাখার জন্যেই এই কাজটি ধরে রেখেছি। এই ব্যবসা করে আমার পরিবারের কোন উন্নতি হয় না। সেই কারনেই এই ব্যবসার পাশাপাশি আমি নিজেই বিভিন্ন বিয়ে ও খেলাধুলার অনুষ্ঠানে ব্যন্ডপার্টির সঙ্গে বাজনা বাজাই। দাম্পত্য জীবনে ৪ মেয়ে এক ছেলে। বড় কষ্ট করে ৩ মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। বসতভিটা হিসেবে সরকারের খাস দেড় শতক জমির উপর বসবাস করছি”।
অনিমা, মায়া রানী ও অর্চনা রাণী নামের বাঁশ শিল্পীরা জানান, কাজ না থাকায় তাদের হাতে কোনো টাকা পয়সা থাকে না। ফলে নিজের রুচি কিংবা চাহিদা মোতাবেক কোনো জিনিষপত্রও কিনতে পারছেন না। যে কোনো প্রয়োজনে স্বামী বা সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে থাকতে হয়।
তাদের অভিমত, বাঁশ শিল্পকে রক্ষা করতে হলে বাজারে বাঁশপণ্যের খাজনাবিহীন বিক্রির সুযোগ করে দিতে হবে। করতে হবে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা।
এ শিল্পটি ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের অন্তর্ভুক্ত হলেও সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো সংস্থাই এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার ভ‚মিকা নিচ্ছে না। বাঁশ শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার। সে সঙ্গে পেশায় জড়িতদের তালিকা করে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা উচিত।

পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 6749379168638376816

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item