প্রকৃত অসহায় মানুষের তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


অনলাইন ডেস্ক

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে প্রকৃত অসহায় মানুষের নাম যেন সরকারি ত্রাণ বিতরণের তালিকায় আসে সে জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাস ভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ নির্দেশ দেন।

 প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্রাণ যাদের সত্যিকারের প্রয়োজন তাদের নামটা যেন তালিকায় থাকে। সেটা যেন সঠিক লোকের হাতে পৌঁছায়। আমি এরই মধ্যে দলের নেতাকর্মীদের ত্রাণ কমিটি করতে বলেছি। সংকটে থাকা মানুষদের তালিকা করতে নির্দেশ দিয়েছি। আমরা দলের পক্ষ থেকেও কাজ করে যাচ্ছি।
ত্রাণ বিতরণ নিয়ে অনিয়ম দেখলে সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্নীতি আমরা বরদাস্ত করব না। এসব ঘটনায় মামলাও হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে। এসব ঘটনায় ১১টি ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। ৪০ জনের মতো সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে। তদন্ত করতে গিয়ে দেখা গেছে খুব বেশি অনিয়ম হচ্ছে না। যেটা হচ্ছে সেটাও আমরা চাই না।
তিনি বলেন, আবার কোথাও কোথাও তদন্ত করে দেখা গেছে এমন ঘটনা ঘটেনি। আশপাশের লোকগুলো ফাঁসিয়ে দিয়েছে। এই দুর্যোগের সময়ে কেউ কারো পেছনে লেগে থাকবেন এটা ঠিক নয়।
সরকারপ্রধান বলেন, খেটে খাওয়া মানুষ, নিম্নবিত্ত যারা সংকটে আছে তাদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রণোদনা ঘোষণা করেছি যাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সবার জন্য সুবিধা থাকছে। ৫০ লাখ মানুষের রেশন কার্ড আছে। আরও ৫০ লাখ মানুষকে রেশন কার্ড দিয়ে দেব। আমরা তালিকা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য রেখে আগেই উদ্যোগ নেওয়ায় বাংলাদেশে এখনো করোনাভাইরাস সেভাবে ছড়াতে পারেনি বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ সরকারের কথা সরকারের নির্দেশ মেনে জনসমাগম এড়ি‌য়ে চলার কারণে বিষয়টি এখনো আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।
ঢাকা বিভাগে করোনাভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কেন এত বেশি হলো এ নিয়ে আলোচনা করতে চাই। যারা মারা গেলেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
এ সময় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য পুলিশ, সেনাবাহিনী, ডাক্তার, নার্স সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।
করোনাভাইরাসের কারণে ভবিষ্যতে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা থেকে দুর্ভিক্ষ হতে পারে বলেও আশঙ্কা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সারা বিশ্বে এই ধরনের ঘটনা আর কখনো ঘটেনি। মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত। ঘরে বন্দি মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। এই ভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিশ্বসংস্থা বলছে, এমনকি দুর্ভিক্ষও দেখা দিতে পারে। এটা হলে আমরা কীভাবে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করবো, সেই পরিকল্পনা নিচ্ছি। সেইভাবে আগাম কর্মসূচি নিয়ে নিয়েছি।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে সরকারের ঘরে থাকা নির্দেশ মেনে চলতে দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর, শিবচর, ইতালি থেকে আসার পর সেসব জায়গায় এই প্রদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এজন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া যাবে না।
করোনার নমুনা পরীক্ষার সুযোগ আরো বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৮৬৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। আগে থেকেই ব্যবস্থা নিয়েছি বলেই এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এই রোগটা আর যাতে না ছড়াতে পারে সেই বিষয়ে সবার সতর্ক থাকতে হবে।
আজকের এ কনফারেন্সে ঢাকা বিভাগের আট জেলা যুক্ত রয়েছে। জেলাগুলো হলো- ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ।
শুরুতে নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রশাসন সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন প্রধানমন্ত্রী। এই জেলায় এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ২১৬ জন। মৃত্যু ১৩। আইসোলেশনে আছেন ১৬ জন।

পুরোনো সংবাদ

প্রধান খবর 7189232746713979968

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item