বসন্তের লাল শিমুল-পলাশে ছেয়ে গেছে প্রকৃতি

হাফিজুর রহমান হৃদয়, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ 

ষড়ঋতুর বাংলাদেশ প্রতি দুই মাস অন্তর রূপ পরিবর্তন করে। শুরু হয় গ্রীষ্ম দিয়ে আর শেষ বিপুল ঐশ্বর্যের অধিকারী ঋতুরাজ বসন্ত দিয়ে। বসন্ত এলেই শিমুল পলাশের লাল ফুলে ছেয়ে যায় প্রকৃতি। কুড়িগ্রামের পথে প্রবেশ করলেই নজর কারে সাড়ি সাড়ি শিমুলগাছের ফুটন্ত লাল ফুল। এছাড়াও বাহারি রঙের বসন্তের ফুল নবসাজে সাজিয়ে তোলে গ্রামীণ প্রকৃতি। ডালে ডালে বাহারি বর্ণের সুগন্ধি ছড়ানো ফুল আর পাখির কলরবে মুখরিত চারপাশ। এ যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে
পায় প্রকৃতি। কবিগুরু সেই বর্ণনা দিতে গিয়ে লিখেছেন- আহা, আজি এ বসন্তে এত ফুল
ফুটে, এত বাঁশি বাজে, এত পাখি গায়....। পলাশের রূপে মুগ্ধ হয়ে লিখে ছিলেন, রাঙ্গা হাসি রাশি রাশি অশোক পলাশে। পলাশ ছাড়া বসন্তের কথা ভাবাই যায় না। তাই বসন্তের কবিতা আর গানে বারবার পলাশের উপস্থিতি। কবি দ্বিধান্বিত, বসন্তের পলাশ
নাকি পলাশের বসন্ত!

বনের মতোই অনাদিকাল ধরে বাঙালীর মন রাঙিয়ে দিয়ে যাচ্ছে বসন্ত। গাছের নতুন
পাতায় ভোরের সূ্র্েযর আলো ঝিলিক দেয়। বাগান ভরে উঠে ফুলে ফুলে। চোখ খুললেই
দেখা যায় গোলাপ, জবা, পারুল, শিমুল, পলাশ, কাঞ্চন, মাধবী, কৃষ্ণচূড়া ফুলের সমারোহ। মৌমাছির গুঞ্জন আর কোকিলের কুহুতানে মুখরিত হয় বাতাস। মৌমাছিরা মধুর খোঁজে হন্যে হয়ে ছুটে চলে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে। প্রকৃতির এই কোমল পরশ জানিয়ে দেয় সকলের দ্বারে আজি বসন্ত।

ফাগুনের এই ক্ষণে বিবর্ণ প্রকৃতি জেগে উঠেছে নতুন করে। বাগানের ফুটন্ত কুসুম মনের গহীন কোণের অতি সূক্ষ্ম পুলক জাগিয়ে দেয়। উতলা হয়ে ভাটি বাংলার সাধক পুরুষ লোক কবি শাহ আব্দুল করিমক গেয়ে উঠেন- বসন্ত বাতাসে সই গো/বসন্ত বাতাসে/বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে...। কবিগুরু লেখেন- অতি নিবিড়
বেদনা বনমাঝে রে/আজি পল্লবে পল্লবে বাজে রে-/দূরে গগনে কাহার পথ চাহিয়া/আজি
ব্যাকুল বসুন্ধরা সাজে রে...। সব মিলিয়ে অনন্য ঋতু বসন্ত।

পুরোনো সংবাদ

কুড়িগ্রাম 3648298315246785398

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item