সুন্দরগঞ্জে অসময়ে তিস্তার ভাঙনে বিলিন হচ্ছে আবাদি জমি

নুরুল আলম ডাকুয়াঃ সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)প্রতিনিধি 
অসময়েও ঠেকানো যাচ্ছে না তিস্তার ভাঙন। অব্যাহত ভাঙন মোকাবেলা করতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে চরবাসী। গত ২০ দিনের ভাঙনে এক সহশ্রাধিক একর জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে উজানে ভাঙনের মুখে সহশ্রাধিক একর আবাদি জমি। ২০১৯ সালের স্বরণকালের ভয়াবহ বন্যার ধকল সেরে উঠতে না উঠতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তার উজানে লাগামহীন ভাঙন চরবাসীকে নাকাল করে তুলেছে।
ভাঙনের কারণে প্রতিনিয়ত চরবাসীরকে অসহনীয় কষ্ট স্বীকার করতে হচ্ছে।
 পানি কমে যাওয়ার পর থেকে উপজেলার হরিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ভাঙন শুরু হয়েছে। যতই পানি কমছে ততই ভাঙন বেড়েই চলছে। বিশেষ করে হরিপুর,  শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের কানিচরিতাবাড়ি, মাদারিপাড়া, চর হরিপুর, পাড়াসাধুয়া, লালচামার, পুটিমারী, কেরানির চর, পকিড়ের চর, কালাইসোতার চর এলাকায় তীব্র আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ২৫ দিনের অব্যাহত ভাঙনে সহশ্রাধিক একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। হরিপুর  ইউনিয়নের কানিচরিতাবাড়ি গ্রামের গিয়াজ মিয়া জানান, ৬৫ বছর বয়সে তিনি ২৫ বার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। গত বছরে তিনি ৪ বার নদী ভাঙনের স্বীকার হন। পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি আর নদী ভাঙন মোকাবেলা করতে পারছেন না। আমার বয়সে আমি কখনও পৌষ মাসে নদী ভাঙন দেখিনি। গত ৩ হতে ৪ বছর ধরে এ অবস্থা শুরু হয়েছে। শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, নদী পাড়ের মানুষ আমি নিজে। আমি জানি নদী ভাঙনের কষ্ট এবং জ্বালা যন্ত্রণা। নদী ভাঙন রোধে সরকারের বড় পদক্ষেপ ছাড়া আমাদের পক্ষে কোন কিছু করা সম্ভব নয়।
 গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর  রহমান জানান, নদী ভাঙন রোধ, সংস্কার, সংরক্ষণ করা বৃহৎ প্রকল্পের প্রয়োজন। এটি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তবে এর মধ্যে ৪০৬ কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোলেমান আলী জানান, বর্তমানে তিস্তার উজানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেখানে শুধু আবাদি জমি ভাঙছে।
গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানান, ২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জনস্বার্থে মহান সংসদে নদী ভাঙন বিষয়ের উপর জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশটি উপস্থাপন করেন। জবাবে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুন্দরগঞ্জের নদী ভাঙন রোধ প্রকল্পের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, নদী ভাঙন রোধ, বাঁধ সংস্কার ও সংরক্ষণ বাবদ ৪০৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে পাশ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পটি পাশ হলে অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।
২০১৯ সালের ২ মে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার তিস্তানদীর বিভিন্ন ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন তিস্তা নদীকে রক্ষা এবং ভাঙন রোধ করতে হলে নদীর গতিপথ একমুখি করতে হবে। তিনি এ ব্যাপারে আশু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করেছেন।
২০১৯ সালের ২০ মার্চ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের তিস্তা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। প্রতিমন্ত্রী বলেন পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পুরোনো সংবাদ

গাইবান্ধা 3344900726786130672

অনুসরণ করুন

মুজিব বর্ষ

Logo

সর্বশেষ সংবাদ

শিল্প-সাহিত্য

ফেসবুক লাইকপেজ

তারিখ অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item