অভ্যন্তরিন কোন্দলের মধ্যেই নীলফামারী জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো

বিশেষ প্রতিনিধি ১৬ জানুয়ারী॥ দলের একটি বৃহৎ অংশকে বাহিরে রেখে নীলফামারী জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো আজ বৃহস্পতিবার(১৬ জানুয়ারী)। দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া এই সম্মেলনে জেলা বিএনপির বৃহৎ একটি অংশ অংশগ্রহন করেনি বলে নেতাকর্মীরা জানায়। দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমী সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন দলটির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নেতাকর্মীরা জানান, জেলা বিএনপির দুটি অংশের কোন্দল দীর্ঘদিনের। এবারও ওই কোন্দল জিয়ে রেখেই আহ্বান করা হয়েছে সম্মেলনের। কোন্দল মেটানোর চেষ্টায় দুই দফায় পেছানো হয়েছিল সম্মেলনের তারিখ। এরপরও কোন্দল নিরসন না হওয়ায় অনেক প্রবীণ এবং ত্যাগী নেতাদের অংশগ্রহন ছিল না সম্মেলনে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক কমিটির এক নেতা বলেন, জেলা বিএনপির প্রবীণ ও ত্যাগী নেতা আনিছুল আরেফিন চৌধুরী। তিনি একাধিকবার জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। সর্বশেষ কমিটিতেও তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবারের সম্মেলনে তাকে কোনো  ধরণের সম্মান জানানো হয়নি। অপরদিকে ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সামসুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সেলিম ফারুক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদ গোলাম মোস্তফা, যুব বিষয়ক সম্পাদক সোহেল পারভেজ, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচএম সাইফুল্লাহ রুবেলসহ অনেক ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাদের কৌশলে সম্মেলনের বাইরে রাখা হয়েছে। এমনকি কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরীকেও সম্মেলনে আমন্ত্রন জানানো হয়নি।
বিলুপ্ত ওই কমিটির এক নেতা বলেন, আহ্বায়ক কমিটি সুকৌশলে আমাদেরকে বাইরে রেখেই সম্মেলন আহ্বান করেছেন। অপর এক নেতা বলেন, আমি জেলা বিএনপির বিভিন্ন পদে একাধিকবার ছিলাম। সর্বশেষ কমিটিতেও একটি সম্পাদকীয় পদে দায়িত্ব পালন করেছি। এবারের সম্মেলনে আমাকে কাউন্সিলর করা হয়নি। এ কারণে আমার মতো অনেকে অনুপস্থিত থাকবেন ওই সম্মেলনে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে কমিটি গঠনে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক কোনো প্রার্থী নেই। প্রকৃত বিষয়টি হলো কৌশলে এসব পদে অন্যদের মনোনয়ন সংগ্রহের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ২৯ নভেম্বর নীলফামারী জেলা বিএনপির সর্বশেষ সম্মেলণ অনুষ্ঠিত হয়। দ্বি-বার্ষিক ওই কমিটিতে আনিছুল আরেফিন চৌধুরী সভাপতি ও মো. শামসুজ্জামান সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
২০১৯ সালের জুন মাসে ওই কমিটি বিলুপ্ত করে আলমগীর সরকারকে আহ্বায়ক ও জহুরুল আলমকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্যের অহবায়ক কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্র।
আহ্বায়ক কমিটি বিভিন্ন স্তরের সম্মেলণ অনুষ্ঠান শেষে গত বছরের ১৪ নবেম্বর জেলা সম্মেলনের দিন ধার্য্য করেছিলেন। এসময় ত্যাগী জ্যেষ্ঠ নেতাদের বাদ দিয়ে সম্মেলন ঘোষণার অভিযোগ উঠলে ওই তারিখ পরিবর্তন করে ২৩ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয়। তাতেও দ্বন্দ নিরসন না হওয়ায় ১৬ জানুয়ারী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলন ঘিরে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন সংগ্রহের আহ্বান জানানো হলে সভাপতি পদে বর্তমান আহ্বায়ক আলমগীর সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে সদস্য সচিব জহুরুল আলম ছাড়া কেউ মনোনয়ন সংগ্রহ করেননি। ফলে তারাই সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক নিবার্চিত হন।
এবিষয়ে জেলা বিএনপির নবাগত সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম বলেন,“ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আনিছুল আরেফিন চৌধুরী ও কেন্দ্রিয় বিএনপির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরীকে আহবায়ক কমিটির উপদেষ্ঠা করা হয়েছে। আর তারা যাদের নাম বলছেন তারা সবাই আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তাদেরকে বিভিন্ন কমিটিতে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছিল, কিন্তু তারা অনিহা প্রকাশ করেছিলেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য তাদের মনোয়ন সংগ্রহ করার সুযোগ ছিল, কিন্তু মনোনয়ন সংগ্রহ করেননি। #

পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 5253256939845409567

অনুসরণ করুন

মুজিব বর্ষ

Logo

সর্বশেষ সংবাদ

শিল্প-সাহিত্য

ফেসবুক লাইকপেজ

তারিখ অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item