কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষীদের স্বপ্নভঙ্গ ,আলুর ঢলে পড়া রোগে দিশেহারা কৃষক

মোঃ শামীম হোসেন বাবু, কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)সংবাদদাতাঃ  আগাম আলু উৎপাদনের সুঁতিকাগার বলে খ্যাত নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার আলুক্ষেতে আলুর মড়ক (ঝ্যামড়া ও গোড়া পচন) দেখা দিয়েছে।ফলে  কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ধানের দাম না থাকায় আগাম আলু উৎপাদন করে অতিরিক্ত লাভের যে স্বপ্ন দেখেছিল কৃষকদের সেই স্বপ্ন ভঙ্গ হতে বসেছে।
 কৃষকরা জানান,  সঠিক সময়ে জমিতে আলু চাষ করেছেন। সময়মতো জমিতে সেচ ও কীটনাশকও দিয়েছেন; কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগেই আলুর মড়ক রোগ দেখা দিয়েছে। গোড়াপচা ও ঝ্যামড়া পচা রোগে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের  অনেক আলু। কৃষি অফিস বলছে আবহাওয়া অনুকুলে না থাকায় এবারে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বেশি।
তারপর মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা আলু চাষীদের পরামর্শ অব্যাহত রেখেছে।
 উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩ হাজার ২শ  হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এরমধ্যে আগাম আলু চাষ হয়েছে  প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে।
 গত সোমবার সরেজমিনে উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি, নিতাই ইউনিয়নের পানিয়লপুকুর,কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কেশবা এলাকায় গিয়ে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কৃষকরা আলু লাগিয়ে সময়মতো জমিতে পানি ও বালাইনাশক ¯েপ্র করার পর তাজা হয়ে উঠতে শুরু করে আলুক্ষেত।  দেখে এবার তারা বা¤পার ফলনের আশা করছিল। হঠাৎ করে গোড়াপচন ও ঝ্যামড়া পচন মড়ক দেখা দেয়। বার বার কীটনাশক দিয়েও রক্ষা করা যাচ্ছে না আলুক্ষেত। কারো জমির আলু ক্ষেতের বয়স ৩৯ দিন,৩০ দিন বা ২৫ দিন। আলু রোপনের ৬০ দিনের মধ্যে আলু তাদের বাজারে বিক্রি করার কথা।

উত্তর দুরাকুটি গ্রামের আলু চাষী লালবাবু মিয়া বলেন তিনি দুই বিঘা  জমিতে আগাম আলু চাষ করেন। তার আলু ক্ষেতের বয়স ৩৭ দিন। সুন্দর আলুর গাছ দেখে তিনি মনে করেছিলেন এবারে তার আলুর বাম্পার ফলন হবে। কিন্তু আলু নিড়ানীর পর থেকে তাঁর আলু ক্ষেতে মড়ক দেখা দেয়। সবশেষে তিনি আলুর আশা ছেড়েই দিয়েছেন।
একই গ্রামের আলু চাষী মোকলেছার রহমান, শামীম হোসেন বাবু, আবু বক্কর সিদ্দিক । তারা সকলেই বলেন আলু ক্ষেতে মড়ক  (ঢলে পড়া রোগ) দেখা দেওয়ার পর কৃষি বিভাগের দেয়া পরামর্শে কয়েক  প্রকারের কিটনাশক অটোস্টিন, গোল্ডাজিম, নইন, টিনটিন, তোতে, স্প্রে স্টেপ টু মাইসিন  প্রয়োগ করে এই মোড়ক হতে আলু ক্ষেত রক্ষা পাচ্ছেনা।  ফলে আলু চাষিরা অতিরিক্ত লাভের যে স্বপন দেখেছিল তাদের সেই স্বপ্ন ভঙ্গ হতে বসেছে।

কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কেশবা  গ্রামের কৃষক মহির উদ্দিন  বলেন, আমি এবার ৩০ শতক  জমিতে আগাম আলু চাষ করেছি।  আলু গাছ মরে যাচ্ছে  ওষুধ স্প্রে করে কোন কাজ হচ্ছেনা। এছাড়াও মহসিন, নুরুজ্জামান আমিনুরসহ গোটা উপজেলায় শত শত আলু চাষী কৃষকের আলু মড়ক রোগে (ঢলে পড়া) শেষ হয়ে গেছে।
 উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, যে সমস্ত জমিতে মড়ক রোগ দেখা দিয়েছে সেগুলো জমির বীজ দুষিত হয়ে থাকতে পারে এবং কিছু কিছু জমিতে ব্যাকটেরিয়ার কারনেও মড়ক লেগে আছে।  আমাদের কর্মীরা মাঠে রয়েছেন এবং কৃষকদের সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছে।




পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 1526095842455853333

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

শিল্প-সাহিত্য

ফেসবুক লাইকপেজ

তারিখ অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item