নীলফামারীতে চার শিশুকে 'যৌন হয়রানী ইসলামী কিন্ডারগার্টেনের সুপার পালিয়ে গেল

বিশেষ প্রতিনিধি॥ এক সন্তানের জনক নীলফামারী সদরের হাজীগঞ্জ দারুন কোরআন নূরানী ইসলামী কিন্ডার গার্টেনের সুপার আবু তাহের(৩২)। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি স্কুলের ক্লাশ শেষে হাতের লিখা সুন্দর করার প্রশিক্ষনের নামে সিরিয়ালভাবে শিশু মেয়ে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানী করে আসছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ঘটনাটি প্রকাশ হয়ে পড়লে সেখানে তোলপাড় সৃস্টি হয়।
এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দিয়ে  আবু তাহেরকে আটকের চেস্টা করলে তিনি পালিয়ে যায়। আবু তাহের জেলা সদরের গোড়গ্রাম ইউনিয়নের কির্তনীয়া গ্রামের মুন্সিপাড়া গ্রামের ইছা আলীর ছেলে।এলাকাবাসী জানায় ইউনিয়নের হাজ্বীগঞ্জ বাজারের ধারে ২০১৮ সালের জানুয়ারী মাসে আবু তাহের হাজীগঞ্জ দারুন কোরআন নূরানী ইসলামী কিন্ডার গার্টেন চালু করে তিনি সুপার হন নিজেই। প্রতিষ্ঠানে তিনি সহ আরো দুইজন সহকারী শিক্ষক ও দেড়শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির শিশু শিক্ষার্থীরা  অভিযোগ করে জানায় সকালে ক্লাশ শুরু হয়ে বেলা তিনটায় ছুটি হয়। গত ১৫ দিন ধরে সুপার আবু তাহের স্কুল ছুটির পর বিকাল ৪টা হতে এক ঘন্টা হাতের লিখা সুন্দর করার জন্য প্রশিক্ষনের কথা বলে। এ জন্য তিনি সকল শিক্ষার্থীদের সিরিয়াল কৌশল চালু করে।  তৃতীয় শ্রেনীর এক ছাত্রী জানায় তার বাবা মারা গেছে। মা ঢাকায় তৈরী পোষাক কারখানায় কাজ করে। সে নানীর কাছে থাকে। হাতের লিখা সুন্দর করার প্রশিক্ষনে সে প্রথম দিন আসে। সকল ছাত্র/ছাত্রীদের ছুটি দিয়ে তাকে একমাত্র রেখে দেয় সুপার আবু তাহের। স্কুল রুমের দরজা জানালা বন্ধ করে তাকে জড়িয়ে ধরেন। এরপর তাকে পরের দিন আসার জন্য বলে। পরেরদিন এলে একই ভাবে তাকে যৌন হয়রানীর পাশাপাশি জামা খোলার চেস্টা করলে সে বাধা দেয়। এরপর সে হাতের লিখা প্রশিক্ষনে আশা ছেড়ে দেয়। অপর তিন শিশু মেয়ে অভিযোগ করে জানায় তাদেরকেও যৌন হয়রানী করতে থাকে সুপার আবু তাহের। শিশুরা এ ঘটনাটি ২১ সেপ্টেম্বর তাদের মাদের  অবগত করে। তিন শিশুর মা স্কুলে গিয়ে সুপারকে আটক করতে গেলে সে পালিয়ে যায়। ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি আর স্কুলে আসেননি। বৃহস্পতিবার ২৬ সেপ্টেম্বর সুপার স্কুলে এলে শিশুরা স্কুল থেকে বেরিয়ে আসলে ঘটনাটি ফাস হয়ে পড়ে। সেখানে  উত্তেজনা দেখা দিলে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দিয়ে সুপারকে আটকের চেস্টা করে। এলাকাবাসীর অভিযোগ কিছু প্রভাবশালী এসে ওই সুপারকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে।
ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে শিশুদের জবাববন্দী রেকর্ড করেছে। এদিকে এলাকাবাসী জানায় ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তি শিশুদের অভিভাবদের মামলা না করার জন্য হুমকী ধমকী দিয়েছে।
নীলফামারী থানার ওসি মোমিনুল ইসলাম জানান শিশুদের অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগ সহ মামলা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে পুলিশ ওই সুপারকে গ্রেফতারের জন্য চেস্টা করছে।#

পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী সদর 8778811878282038013

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

শিল্প-সাহিত্য

ফেসবুক লাইকপেজ

তারিখ অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item