ফেয়ার প্রাইজ চালে প্রতারনা ডোমারে এক ডিলারের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

আবু ফাত্তাহ্ কামাল (পাখি) //ইনজামাম-উল-হক নির্ণয় সরকারের খাদ্য বান্ধব ফেয়ার প্রাইস কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে বছরে প্রতিমাসে ৩০ কেজি চাল বিতরনে নীলফামারীতে বেশ কিছু ডিলার প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।সরকারের খাদ্য গুদাম হতে ভাল মানের চাল সরবরাহ করা হলেও ডিলাররা তা পাল্টিয়ে নি¤œচাল বিতরন করছে!
এমন ঘটনা নিয়ে আজ সোমবার অভিযান চালিয়ে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের  ডিলার সামিউল ইসলামের ৫০ হাজার টাকা জরিমান করেছে ভ্রাম্যমান আদালের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উপজেলা ইউএনও উম্মে ফাতিমা।
জানা যায়, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় ফেয়ার প্রাইস কার্ডের নীলফামারীর ছয় উপজেলায় এক লাখ ৩২ হাজার ৮৬০ সুফলভোগীদের মাঝে চাল বিতরনের জন্য ২৬৭ জন ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়।
চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসের চাল বিতরন শেষে এখন শুরু হয়েছে সেপ্টেম্বর ,অক্টোবর,নবেম্বর তিন  মাসের চাল বিতরন।
সুত্র মতে আজ সোমবার হতে সেপ্টেম্বর মাসের চাল বিতরন শুরু হয়। এ জন্য গত ৭ সেপ্টেম্বর ডিলাররা সেপ্টেম্বর মাসের জন্য স্ব-স্ব- উপজেলার সরকারী খাদ্যগুদাম হতে চাল উত্তোলন করে তাদের গুদামে মজুদ রাখে। অভিযোগ মতে সরকারের ভালমানের চাল পাল্টিয়ে বেশ কিছু ডিলাম নি¤œমানের চাল বিতরনের পায়তারা করছিল।
অভিযোগ পেয়ে ডোমার উপজেলার হরিনচড়া ইউনিয়নের ডিলার সামিউল ইসলামের গুদামে অভিযান চালালে ঘটনার সত্যতা পেয়ে যায় ভ্রাম্যমান আদালত। ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে অন্যান্য যে ডিলার একই কাজ করেছিল তারা দ্রুততার সঙ্গে নি¤œমানের চাল সরিয়ে সরকারী ভালমানের চাল বিতরন শুরু করে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) তহিদুর রহমান জানান, সোমবার বিকালে ওই ডিলার নিজের অপরাধ স্বীকার করলে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা তার ৫০ হাজার জরিমানা অনাদায়ে ৭দিনের বিনাসশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে। ডিলার ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে।
জানা যায় হরিণচড়া ইউনিয়নে সুফলভোগীর সংখ্যা এক হাজার ৫১০ জন। সেখানে তিনজন ডিলার রয়েছে। এরমধ্যে ধরনীগঞ্জ পয়েন্টের ডিলার সামিউল ইসলামের অংশে ৫০৩ জন সুফলভোগীর চাল ছিল। এলাকাবাসী ওই ডিলারের ডিলারশীপ বাতিলের দাবি করেছে।
এদিকে বিভিন্ন পয়েন্টে এই চাল বিতরনে ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ করেছে সুফলভোগীরা। খাদ্যগুদামের সিলমারা ৩০ কেজি ওজনের বস্তার চাল হতে অনেক ডিলার কৌশলে এক থেকে দেড় কেজি চাল বের করে নিচ্ছে। কোন সুফলভোগী প্রতিবাদ করলে তাদের কার্ড বাতিলের হুমকী দেয়া হয়। ফলে  সুফলভোগীরা কার্ড বাতিলের ভয়ে লিখিত অভিযোগ করতে চাননা।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুদ্দিন আহম্মেদ জানান প্রতিটি ঘটনা আমরা তদন্ত করে দেখছি। তদন্তে প্রমানিত হলে ডিলারশীপ বাতিল করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান হরিণচড়া ইউনিয়নের একজন ডিলার চাল পরিবর্তন করে নি¤œপানের চাল বিতরনের চেস্টা করায় তার ডিলারশীপ বাতিল করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ যে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারকে ১০ টাকা দরে  প্রতিমাসে ৩০ কেজি চাল দেয়া প্রতিশ্রুতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন ২০১৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর। মার্চ ও এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর—প্রতি বছরের এই ৫ মাস এ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এই পাঁচ মাস দেশের গরিব মানুষের কষ্ট হয়, এ সময় বাজারে চালের দাম বাড়তির দিকে থাকে, তাই এই পাঁচমাস তাদেরকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।এ কর্মসূচির মাধ্যমে বছরে সাড়ে ৭ লাখ টন চাল বিতরণ করা হচ্ছে।#

পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 5864813304749312044

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item