বাবলুর লাশ ফেরত আনার দাবিতে ডিমলায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন

বিশেষ প্রতিনিধি - ভারতীয় সীমান্তরক্ষীর গুলিতে নিহত গরুর রাখাল বাবলু মিয়া(২৪) লাশ ও আটক চৌদ্দ বছরের সাইফুল ইসলামকে ফেরত আনার দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকার ৫ শতাধিক নারী পুরুষ। আজ বুধবার(১১ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে এই মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করা হয়।
এ সময় এলাকাবাসীর সাথে মানববন্ধনে অংশ নেয় নিহত বাবলুর বিধবা স্ত্রী রজিফা বেগম, বাবা নুর মোহাম্মদ ও  মা আছিয়া খাতুন, বড় ভাই রাসেল মিয়া, ছোট ভাই লিটন ও খোকন, বোন পারভিন আক্তার, নার্গিস আক্তার, সিমু আক্তার, আন্না বেগম।
মানববন্ধনে এলাকাবাসী দাবি করে জানায় তারা ৫১ বিজিবির সহযোগীতায় নিহত বাবলু ও  বিএসএফের কাছে আটক থাকা সাইফুলকে ফেরতের দাবি করা হয়।
এলাকাবাসী জানায় আজ বুধবার বিকালে উক্ত স্কুল মাঠে সীমান্তে চোরাচালান,মানবপাচাররোধে গণসচেতনার জন্য ৫১ বিজিবির পক্ষে মতবিনিময় সভার ডাক দেয়া হয়েছিল। এ জন্য আগের দিন বিজিবি এলাকায় মাইকিং করেছিল। কিন্তু বাবলুর লাশ ও আটক সাইফুলকে ফেরতের দাবি নিয়ে এলাকাবাসীর মানববন্ধন কর্মসুচির কারনে ওই সভা বিজিবি স্থগিত করে বিজিবি। এ বিষয়ে ৫১ বিজিবির পক্ষে  মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 
মানববন্ধনে বাবলুর বাবা মা ভাই বোন কান্না বিজরিত কন্ঠে জানায় আমরা কিছুই চাইনা আমাদের বাবলুর লাশ ফেরত চাই। তারা জানায় ঘটনার ৯দিন অতিবাহিত হলেও আমরা আজও বাবলুর লাশ ফেরত পাইনি।
আমরা দেশের ও গ্রামের মাটিতে বাবলুর লাশ দাফন করতে চাই।
এদিকে মানববন্ধনে অংশ নেয়া  নিহত বাবলুর স্ত্রী যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সে শুধু ডুকরে ডুকরে শুধুই চোখের পানি ফেলছিল। এক সময় চিৎকার করে বলতে থাকে আমার স্বামীর লাশ এনে দেন। শেষবারের জন্য তাকে একবার দেখতে চাই। নিহত বাবলু উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ যৌথবাধ এলাকার বাসিন্দা। অপর দিকে বিএসএফের হাতে আটক সাইফুলের বাবা ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়শিঙ্গেশ্বর গ্রামের গোলজার রহমান জানান আমার ছেলেকে ফেরত চাই।তার অভিযোগ আমি ও নিহত বাবলুর পরিবার  ৫১ বিজিবির কাছে আমরা  বার বার ধর্না দিয়েও কোন আশার আলো দেখতে পাইনি।
এমন কি গত রবিবার(৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে নিহত বাবলু ও আটক সাইফুলকে ফেরত আনার  দাবিতে  ৫১ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার(সিও) স্যারের কাছে লিখিত আবেদন নীলফামারীর ডিমলা ইউএনও  মাধ্যমে প্রদান করি।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা ও লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম তিস্তা নদীর চর সীমানায় গরু চড়াতে ও ঘাস কাটতে গেলে  সীমান্তের ৭৭২ প্রধান পিলালের কাছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মোহাম্মদ বাবলুর মিয়া(২৪) নিহত হয়। এ সময় বাবলুর সঙ্গে থাকা চৌদ্দ বছরের বালক সাইফুল ইসলাম আহত হয়। বাবলুর লাশ সহ আহত বালককে বিএসএফ ভারতে নিয়ে যায়।
এদিকে একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায় ভারতীয় বিএসএফে বাবলুর মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে কুচবিহার হাসপাতালের মরচ্যুয়ারীতে সংরক্ষন করে রেখেছেন। অপর দিকে আহক বালক সাইফুল ইসলামের চিকিৎসা শেষে তাকে জলপাইগুড়ির কিশোর সু-রক্ষা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। #

পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 382438197456171530

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

শিল্প-সাহিত্য

ফেসবুক লাইকপেজ

তারিখ অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item