রংপুরের আইন-শৃংখলা রক্ষায় এসপি মিজানের বিশেষ কর্মকান্ড!

মামুনুর রশিদ মেরাজুল রংপুর ব্যুরোঃ
রংপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান। রংপুরে তিনি প্রায় পৌনে ৩ বছরে আইন-শৃংখলা রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় দু’বার পিপিএম (প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল) পদক এবং রংপুর রেঞ্জের মধ্যে ১৪ বার শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপারের পুরস্কার পেয়েছেন। সম্প্রতি পুলিশ সুপার পদে রদবদলে তাকে রাজবাড়ী জেলায় বদলী করা হয়েছে।
পুলিশ সুপারের কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, বিগত ২০১৬ সালের ২ আগষ্ট রংপুরে এসপি হিসেবে মিজানুর রহমান যোগদান করেন। এরপর থেকেই তিনি রংপুরের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়নে মাদক-জঙ্গী ও সামাজিক অপরাধ দমনসহ নাগরিক জীবনের নিরাপত্তায় জনসচেতনতা সৃষ্টিতে বিভিন্ন কর্মসুচী গ্রহন ও বাস্তবায়ন করেন। রংপুর জেলার ৮ থানায় পুলিশের ব্যাপক তৎপরতার কারণে বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রনে আনেন বলে একাধিক সুত্র জানিয়েছে। আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রনে বিশেষ অবদান রাখায় পিপিএম (প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল) পেয়েছেন। এ পদক দু’বার পাওয়ায় ‘পিপিএম-বার’ বলা হয়ে থাকে।
ওই সুত্র আরও জানিয়েছে, এসপি মিজানুর রহমান গত ২ বছর ৮ মাসে রংপুর জেলাকে নিরাপত্তার বলয়ে রাখতে গুরুতর অপরাধীদেরকে নিয়ে অভিযান শুরু করলে প্রতিপক্ষের মাঝে বন্দুকযুদ্ধ এবং ক্রসফায়ারে ২৭ জন নিহত হয়। এরমধ্যে ২০ জন দাগী সন্ত্রাসী ও ডাকাত, ৬ জন মাদক ব্যবসায়ী এবং ১জন ধর্ষক ছিলেন। অপরদিকে জাপানী নাগরিক হোসিও কোনি হত্যাকান্ড, এ্যাডভোকেট রতীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা হত্যাকান্ড, সাংবাদিক উৎস রহমান হত্যাকান্ড ক্লুলেস মার্ডার হলেও এ সব হত্যার মোটিভ উদঘাটন করে খুনীদেরকে বিচারের মুখোমুখী করা হয়েছে। পাশাপাশি রংপুরের ২ লাখ ৫৩ হাজার ৮২৩ জন শিক্ষার্থীকে এক সাথে নিয়ে জঙ্গী ও মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান, মানববন্ধনসহ শপথ গ্রহন করানো হয়। এছাড়াও ১৩০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে তাদেরকে স্বাভাবিক জীবন-যাপনে সহায়তা প্রদান করা হয়। দেশে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় প্রতি বছরই হাজারো মানুষ নিহত হন। রংপুরে ‘নো-হেলমেট, নো-পেট্রোল’ আন্দোলনের প্রবর্তক হয়ে এসপি মিজানুর রহমান সামাজিক আন্দোলনটি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেন। পাশাপাশি জেলার ৮ থানায় পুলিশের মাধ্যমে ভুর্তুকি দিয়ে প্রতিটি হেলমেট মাত্র ৫’শ টাকা মুল্যে মোট ২৭ হাজার হেলমেট বিক্রি করা হয়। এতে রংপুরের ৮ উপজেলায় মোটরসাইকেল আরোহীরা সড়ক দুর্ঘটনায় প্রানহানি থেকে রক্ষা পাওয়ায় তাকে পিপিএম পদক দেয়া হয়। রংপুরে প্রতি মাসে গড়ে ৮ জন করে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হলেও বিগত ৪ মাসে মাত্র ২ জন নিহত হওয়ায় মৃত্যুহার কমে এসেছে।
অপরদিকে এসপি মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে কোন রকম সহিংসতা ছাড়াই একাদশ সংসদ নির্বাচন, রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে এবং তারই উদ্যোগে রংপুর মহানগরে ১২৯ টি সিসি (ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা) ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
সাঁতার না জানার কারণে অনেকেই পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করেন। বিষয়টিকে জনগুরুত্বপুর্ন সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এসপি মিজানুর রহমান প্রায় ২ বছর বেসরকারীভাবে বিশেষ আর্থিক ফান্ড তৈরী করেন। পরে ওই অর্থে তিনি রংপুর কোতয়ালী থানার সামনে তিলোত্তমা হোটেলের পাশে আধুনিক ও উন্নতমানের একটি ‘সুইমিং পুল’ নির্মান করে দেন। পুলটি দৈর্ঘ্যে ৮৫ ফুট এবং প্রস্থে ৩৫ ফুট, সর্বমোট ২ হাজার ৬’শ বর্গ ফুটের বলে জানা গেছে।
রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারুফ জানান, এসপি স্যারের নির্দেশনায় রংপুরের সকল থানার পুলিশ অফিসার ও কনষ্টেবল দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রনে রাখতে পেরেছি। এসপি মিজানুর রহমান পিপিএম-বার যুগান্তরকে জানান, রংপুরে যোগদানের পর থেকেই সাধারন মানুষের নিরাপত্তায় বিভিন্ন কর্মসুচী গ্রহন করেছি। পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশনায় রংপুরের প্রতিটি থানায় নারী নির্যাতনের মামলা কমিয়ে এনে সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে শান্তিপুর্ন সমাধান করা হয়েছে। অপরদিকে জঙ্গী-মাদকসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া হয়। বেশকিছু অপরাধীকে নিয়ে অভিযানে বের হওয়ায় প্রতিপক্ষের সাথে বন্দুকযুদ্ধে (ক্রসফায়ার) ২৭ জন নিহত হয়েছে। মাদক এবং জঙ্গীকে প্রাধান্য দিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে একযোগে শপথ করিয়েছি। কারণ আগামী প্রজন্ম রক্ষা পেলে তারাই দেশকে রক্ষা করবে। আমার সকল ইতিবাচক কাজে পুলিশসহ রংপুরবাসীর সহায়তা আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরনে রাখবো।

পুরোনো সংবাদ

রংপুর 5045858287859279556

অনুসরণ করুন

মুজিব বর্ষ

Logo

সর্বশেষ সংবাদ

শিল্প-সাহিত্য

ফেসবুক লাইকপেজ

তারিখ অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item