বিপিএল’এ বসুন্ধরার জয়রথ

ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়,নীলফামারী ॥ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) ফুটবলে নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়ামে পাঁচ গোলের উপভোগ্য ম্যাচে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জয় পেয়েছে বসুন্ধরা কিংস। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে বসুন্ধরা। দুর্দান্ত গোল, সমতা, পাল্টা গোল একটি উপভোগ্য ফুটবল ম্যাচে যে রসদ থাকার প্রয়োজন, তার সবই পাওয়া গিয়েছে নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়ামে।

আরামবাগের খেলোয়াড় তালিকা হাতে তুলে দিলে উইঙ্গার জাহিদ হোসেন ও গোলরক্ষক মাজহারুল ইসলাম ছাড়া কাউকে চিনতে পারবেন বলে মনে হয় না। কিন্তু মারুফুল হকের হাতে পড়ে তারুণ্য নির্ভর দলটি যে কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গেই পাল্লা দিচ্ছে চোখে চোখ রেখে। শারীরিকভাবে এগিয়ে থাকায় এক সঙ্গে মৌমাছির মতো আক্রমণে ওঠে। ব্যাক র্ট্যাকও করে একসঙ্গে ঝড়ের মতো। কিন্তু তারা যেন আজ মৌচাকে ঢিল মারার খেসারতই দিল বসুন্ধরার বিপক্ষে!

২৩ মিনিটেই সফল এক প্রতি আক্রমণে এগিয়ে যায় আরামবাগ। এর পরে যা ঘটল, তা মৌচাকে ঢিল পড়ার মতোই। ১৭ মিনিটের মধ্যে হজম করেছে তিন গোল। ম্যাচটা প্রথমার্ধেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচের লাগাম নিজেদের কাছে নেওয়ার চেষ্টা করে আরামবাগ। বাকি সময়টা কেটেছে এই বুঝি ফিরল সমতা, এমন উত্তেজনায়! শেষ পর্যন্ত না হলেও উপভোগ্য এক ম্যাচ দেখতে পারার আনন্দ নিয়েই ঘরে ফিরেছে মাঠে আসা হাজারখানেক দর্শক।

সাধারণত উভয় দলের কোচ আক্রমণাত্মক মেজাজের হলে খেলা দেখার মজাটাই আলাদা। আর যাই হোক গোল দেখার আনন্দ পাওয়া যাবে অন্তত তা নিশ্চিত। প্রথম গোলটা দুর্দান্ত এক প্রতি আক্রমণে। মাঝমাঠে বসুন্ধরার মিডফিল্ডার মাসুক মিয়া জনির পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে জাহিদের হোসেনের সঙ্গে পাস খেলে ডান প্রান্ত দিয়ে ওঠে ক্রস করেন নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার ম্যাথিউ চিনেডু। বসুন্ধরার রক্ষণভাগের অনেক পেছন থেকে দৌড়ে এসে দূরের পোস্ট থেকে সরাসরি জালে জড়িয়ে দেন আরিফুল ইসলাম। চোখে লেগে থাকার মতো এক গোল। বসুন্ধরার রাইটব্যাক হয়তো ভাবতেও পারেননি বক্সে আরিফুলের আগমনের সম্ভাবনার কথা।

গোল হজম করে মাঠেই মিটিং ডাকেন বসুন্ধরা। দুই মিনিটের মধ্যেই আরামবাগের ডিফেন্ডার জাহিদুল ইসলাম বাবুর আতœঘাতী গোলে সমতায় ফেরা। ২৫ থেকে ৪২, ১৭ মিনিটে বসুন্ধরার নামের পাশে গোল লেখা হলো তিনটি। ৩২ মিনিটে ব্রাজিল-বাংলাদেশ রসায়নে ২-০ করেছেন মতিন মিয়া। গোলরক্ষক জিকোর শট থেকে হেড করে বক্সে বল নামিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার মার্কোস ভিনিসিয়ুস। সে বল মতিন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পুরো আরামবাগ রক্ষণভাগকে ঘোল খাইয়ে বক্সে প্রবেশ করে পোস্ট ছেড়ে বের হয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে পাঠালেন জালে।

৪৩ মিনিটে আবারও ব্রাজিলিয়ান-বাংলাদেশ রসায়নে গোল পায় বসুন্ধরা। তবে এবার গোলদাতা ভিনিসিয়ুসের বলের জোগানদাতা আলমগির কবির রানা। বাম প্রান্ত থেকে রানার ক্রসে গোলমুখ থেকে হেডে ৩-০ করেছেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। প্রথমে গোল হজম করা বসুন্ধরা বিরতিতে যায় ৩-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ নিয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত খেলেছে আরামবাগের তরুণেরা। ৫৩ মিনিটে কিংসলে চুকোদির গোলে ব্যবধানও কমায় তারা। এর পরে পল এমিল ও চিনেডু মিলে সুযোগ তৈরি করেছিলেন বেশ কয়েকটি। ৮০ মিনিটে বল গোল লাইন পার করা না করা নিয়ে উঠে বিতর্ক। রবিউলের নেওয়া ফ্রি কিক গোল লাইন অতিক্রম করার পর বসুন্ধরা গোলরক্ষক জিকো ঠেকিয়েছেন বলে দাবি করে আরামবাগের খেলোয়াড়েরা। কিন্তু রেফারি তাতে কর্ণপাত করেননি। এর পরেও সমতায় ফেরারর মতোই খেলেছে মারুফুলের শিষ্যরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হেরেই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।

এই হারে ৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে আরামবাগ। আর এক ম্যাচ কম খেলে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে বসুন্ধরা। # 

পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী সদর 6987849693348514917

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

শিল্প-সাহিত্য

ফেসবুক লাইকপেজ

তারিখ অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item