সৈয়দপুরে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের তিন দিনব্যাপী ভ্রাম্যমান বই মেলা সমাপ্ত

 তোফাজ্জল হোসেন লুতু,সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ পুরাতন হলরুমের ভেতরে সারি সারি বেশ কয়েকটি বুকসেলফে নানা রকম বই সাজানো। সেলফ থেকে বই হাতে নিয়ে সেগুলোর পাতা উল্টেপাল্টে দেখছেন বিভিন্ন স্কুল কলেজের নানা বয়সী শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে আছে শহরের বইপ্রেমী বিভিন্ন বয়সের নারীপুরুষরাও। সকলেই উদ্দেশ্য একই। আর তা হলো পছন্দের বইটি কেনা। গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে এ দৃশ্য চোখে পড়ে সৈয়দপুরে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ভ্রাম্যমান বই মেলায়। অবশ্যই সোমবার শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী ওই ভ্রাম্যমান বই মেলার। এর আয়োজক হচ্ছে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র। আইএফআইসি ব্যাংকের সহযোগিতায় “বই কিনুন, বই পড়–ন, আলোকিত মানুষ হোন”  প্রতিপাদ্যেকে সামনে রেখে ওই মেলার আয়োজন। গত শনিবার থেকে ওই ভ্রাম্যমান বই মেলা শুরু হয়। ওই দিন বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বই মেলার শুভ উদ্বোধন করেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. বজলুর রশীদ। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রোগ্রাম অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেনসহ শহরের কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল বই মেলায় কথা হয় সৈয়দপুর শহরের উন্নয়নকর্মী প্রতাপ সরকার বিজয়ের সাথে এ প্রতিনিধি। তিনি মূলত একজন বইপ্রেমী মানুষ। তিনি প্রচুর বই কিনেন এবং পড়েন। তিনি  বই কিনতে প্রতি বছর ঢাকার একুশে বই মেলায় বই ছুঁটে যান, বই কিনেন। এ বছরও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের  ভ্রাম্যমান বই মেলার আয়োজনের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ছুঁটেন এসেছেন বই মেলায়। তিনি জানান, বাড়ির কাছে বই মেলা হচ্ছে। আর এ বই মেলার আয়োজক বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র আলোকিত মানুষ গড়তে কাজ করছে।
বই প্রেমী বিজয় আরো জানান, ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও দেশি-বিদেশী  বিখ্যাত লেখকদের অনেক নামীদামী বই এসেছে মেলায়। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, বইপ্রেমীদের দোঁরগোড়ায় এসে বই বিক্রির উদ্যোগ গ্রহন করেছে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র। তাদের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের বই পড়তে ও কিনতে আগ্রহী করে তোলা। তাদের প্রকাশিত বইয়ে ৩০% কমিশন দিচ্ছে। আর অন্যান্য প্রকাশনী সংস্থার বইয়ে কমিশন ২৫%। এছাড়া ভারতীয় বইয়ে গায়ে লিখিত দামের এক রুপী অর্থাৎ বাংলাদেশী টাকায় দেড়গুন বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এ ধরনের কমিশনের সুযোগ একুশের বই মেলায়ও মিলে না।
মেলা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিন দিনব্যাপী ভ্রাম্যমান বই মেলায় ১৭০ টি প্রকাশনা সংস্থার প্রায় ১০ হাজার বিভিন্ন ধরনের বই রয়েছে। দেশি বিদেশী লেখকদের বিভিন্ন বিখ্যাত উপন্যাস, গল্পের বই, রম্য রচনা, কবিতার বই, ভ্রমন কাহিনী, নাটক, শিশুতোষ, প্রবন্ধের বই, সায়েন্স ফিকশন ভৌতিক উপন্যাস, রূপকথা, অনুবাদগ্রন্থ, ইতিহাস,সমাজতত্ত্ব,স্বাস্থ্য-চিকিৎসা বিষয়ক, রান্না বিষয়ক, ব্যায়াম বিষয়ক,কম্পিউটার, ভাষা শেখার বইসহ নানা ধরনের বইয়ের সমারোহ ঘটানো হয়েছে  ভ্রাম্যমান ওই বই মেলায়।       
এদিকে, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগে মেলা শুরু আগেই গোটা শহর জুড়ে ভ্রাম্যমান বই মেলার পোষ্টার লাগানো হয়। এছাড়াও প্রতিদিন শহরের মাইকিং করা হয়। ফলে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা  প্রতিদিন আশানুরূপ বই প্রেমী ক্রেতা মেলা আসেন।
বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রোগ্রাম অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেন ডালিম জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পরও প্রতিদিন মেলায় বইপ্রেমীদের অনেক সাড়া পাওয়া গেছে। আগামীতে বড় পরিসরে এবং বেশি সময় নিয়ে ভ্রাম্যমান বই মেলার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 5509656091166106610

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item