কিশোরগঞ্জে সেতু আছে রাস্তা নেই সুফল পাচ্ছেনা এলাকাবাসী

মোঃ শামীম হোসেন বাবু, কিশোরগঞ্জ,নীলফামারীঃ
রাস্তা নেই, কিন্তু প্রায় ৪১ লাখ  টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করা হয়েছে একটি সেতু। আপাতত সড়ক নির্মাণের কোন পরিকল্পনাও নেই। সম্প্রতি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের কাল্টার মাল্লির খালের উপর এ সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।  এতো টাকা ব্যায়ে সেতু নির্মাণ করা হলেও রাস্তা না থাকায় কোন সুফল পাচ্ছেনা এলাকাবাসী।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে  বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি কালা পাইকারের বাড়ি হতে নিতাই ইউপির সীমানা পর্যন্ত কাল্টার মাল্লি নামক স্থানে ৪০ লাখ ৯৪ হাজার ৫শত টাকা ব্যায়ে ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়ন ও নিতাই ইউনিয়নের শেষ সীমানায় ওই সেতুর অবস্থান। সেতুর এক প্রান্ত কিশোরগঞ্জ উপজেলার সড়কের সাথে সংযুক্ত । কিন্তু অন্য প্রান্তে প্রায় ২ কিলোমিটার জুড়ে শুধু ফসলের মাঠ। পায়ে হাটারও পথ নেই । রাস্তা না থাকার কারনে চলাচল করছেনা কোন যানবাহন। এমনকি রাস্তা না থাকায় কৃষকের উৎপাদিত পণ্য এ সেতু দিয়ে পরিবহন করা যাচ্ছেনা।
বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি গ্রামের মজিবর রহমান বলেন, সেতুটির নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী র্দীঘদিন ধরে দাবী করে আসছিল। সেতু হয়েছে ঠিকই কিন্তু সেতুর পশ্চিম পাশ্বে নিতাই ইউনিয়নের সীমানায় রাস্তার কোন অস্তিত্ব নেই। রাস্তা না থাকলে সেতু করে কি লাভ হল। প্রতিবছর আলু চাষীরা হাজার হাজার হেক্টর জমিতে  আলু চাষ করে।  কৃষকের সেই উৎপাদিত আলু নিতাই কাচারীর বাজার দিয়ে  প্রায় ৬ কিলোমিটার ঘুরে অতিরিক্ত গাড়ি ভাড়া দিয়ে কিশোরগঞ্জ বাজারে নিয়ে যেতে হয়। রাস্তা হলে সেতু দিয়ে নিতাই থেকে  কিশোরঞ্জ বাজারের দুরত্ব দেড় কিলোমিটার । এতে করে আলু সহ কুষকের উৎপাদিত পণ্য খুব সহজেই কিশোরগঞ্জ বাজারে নেয়া যেত।
নিতাই ইউনিয়নের কাচারীর বাজার গ্রামের শরিফুল ইসলাম বলেন, তারাগঞ্জ- কাচারীর বাজারের মুল  সড়কের সাথে ওই সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মান করতে হবে। মুল সড়ক হতে ওই সেতুর দুরত্ব দুই কিলোমিটার। তাছাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা সড়ক নির্মানে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় সড়ক নির্মাণ হচ্ছেনা । সড়ক যদি নির্মাণ না করবে তাহলে এতো টাকা দিয়ে সেতু করার কি দরকার ছিল।
এ ব্যাপারে বাহাগিলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাইর রহমান শাহ দুলু ও নিতাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন বলেন, এ সেতুটি এলাকাবাসীর জন্য খুবই গুরত্বপুর্ন। আমরা জমির মালিকদের সাথে কথা বলে খুব তাড়াতাড়ি রাস্তা করে দেব।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম জানান, সেতু নির্মাণের আগে রাস্তা না থাকার কারনে আমি সেখানে সেতু নির্মাণ করতে চাইনি। কিন্তু সেতুটি এলাকাবাসির কাছে খুবই গুরত্বপুর্ণ। তাছাড়া দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা আমাকে বলেছে সেতু হলেই আমরা রাস্তা নির্মাণের ব্যাবস্থা করব। তাই আমি ঠিকাদারকে দিয়ে সেতুর দু পাশ্বে মাটি ভরাট করে নিয়ে তার পর বিল দিয়েছি।

পুরোনো সংবাদ

এক ঝলক 3771581114942158319

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item