শততম টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ডেস্কঃ
জয়টা প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল চতুর্থদিন শেষ বিকেলেই। যদিও শ্রীলংকার শেষ দুই ব্যাটসম্যান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন; কিন্তু আজ সকালে সাকিব আল হাসানের সামনে সেই প্রতিরোধও ভেঙে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সামনে শততম টেস্টে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯১ রান। লক্ষ্যটা সহজ হলেও পি সারা ওভালের শেষ দিনে স্পিন বান্ধব উইকেটে বাংলাদেশ পারবে তো ইতিহাসটা গড়তে? সংশয়বাদীদের মনে শঙ্কার কালোমেঘ কিছুটা জমেছিল বৈ কি!
শততম টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

কিন্তু তামিম ইকবালের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের সঙ্গে সাব্বির রহমানের দৃঢ়তা এবং সাকিব-মুশফিকের মাঝারি মানের একটি জুটি, শেষ পর্যন্ত ইতিহাস সৃষ্টি করেই দিল বাংলাদেশকে।

একদিকে নিজেদের শততম টেস্ট, অন্যদিকে বিদেশের মাটিতে শক্তিশালী কোনো দলের বিপক্ষে প্রথমবার জয়ের স্বাদ। সব মিলিয়ে নিজেদের শততম টেস্ট ম্যাচে ঐতিহাসিক জয় পেল বাংলাদেশ। আর এই জয়ের মধ্যদিয়ে সাদা পোশাকে নিজেদের নবম জয়টি তুলে নিয়েছে টাইগাররা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম জয়টি পেল টাইগাররা। এর আগে নিজেদের শততম টেস্টে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছিল।

শ্রীলংকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯১ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটের জয় তুলে নেয় টাইগাররা। কলম্বোয় দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কাকে ৩১৯ রানে অলআউট করে দেয় মুশফিকের দল। প্রথম ইনিংসে লঙ্কানরা করেছিল ৩৩৮ রান। জবাবে, নিজেদের প্রথম ইনিংসে টাইগাররা তুলেছিল ৪৬৭ রান। জয়ের জন্য টার্গেট দাঁড়ায় ১৯১। ৬ উইকেট হারিয়ে ঐতিহাসিক এই জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। ফলে, দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে ১-১ এ সমতা রেখে শেষ করলো টাইগাররা।

এর আগে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কা ৩১৯ রান তোলে। শেষ দিনের শুরুতে দিলরুয়ান পেরেরা ও সুরাঙ্গা লাকমাল বাংলাদেশ বোলারদের হতাশ করে ব্যাটিং করতে থাকেন। জুটি গড়েন ৮০ রানের।

শেষদিন প্রায় তিন সেশন হাতে পেয়েছিল বাংলাদেশ। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের উপর ভরসা রেখে সেই যাত্রা শুরু করে তারা। কিন্তু রঙ্গনা হেরাথের স্পিনে পরপর দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল মুশফিকরা। সেই চাপ থেকে কিছুটা বের হতে পেরেছে তারা তৃতীয় উইকেট জুটিতে।

জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় অষ্টম ওভারে রঙ্গনা হেরাথের শেষ দুই বলে সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েস বিদায় নেন। সৌম্য ১০ রান করে উপল থারাঙ্গার ক্যাচে পরিণত হন। পরের বলেই শূন্য রানে থাকা গুনারতেœকে ক্যাচ দেন ইমরুল।

সৌম্য-ইমরুল দ্রুত ফিরে গেলেও উইকেটে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে থাকেন তামিম ইকবাল। তৃতীয় উইকেট জুটিতে সাব্বির রহমানকে নিয়ে ১০৯ রানের জুটি গড়েন।
শততম টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

তুলে নেন ক্যারিয়ারের ২২তম হাফসেঞ্চুরি। তবে ব্যক্তিগত ৮২ রানের মাথায় দিলরুয়ান পেরেরার বলে তুলে মারতে গিয়ে চান্দিমালের ক্যাচে পরিণত হন তিনি। অসাধারণ ইনিংসটি সাজাতে খেলেছেন ১২৫ বল, রয়েছে সাতটি চার ও একটি বিশাল ছক্কার মার।

তামিমের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সাব্বির রহমান। টেস্ট মেজাজে খেলতে থাকা এই হার্ডহিটার পেরেরার দ্বিতীয় শিকারে এলবির ফাঁদে পড়েন। ৭৬ বলে পাঁচটি চারের সাহায্যে ৪১ রান করেন তিনি।

পেরেরার তৃতীয় শিকারে পরিণত হন প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসান। ব্যক্তিগত ১৫ রানে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিওন মুখি হন বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার। জয়ের জন্য দুই রান বাকি থাকতে বিদায় নেন মোসাদ্দেক (১৩ রান)। মুশফিক ২২ রানে আর মিরাজ ২ রানে অপরাজিত থাকেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ৩৩৮ ও ৩১৯
বাংলাদেশ: ৪৬৭ ও ১৯১/৬

পুরোনো সংবাদ

খেলাধুলা 5022556985229871636

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item