জ্বীন ও কালী ছাড়ার নামে নির্মম নির্যাতন। অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি কিশোর আলতাবুল ইসলাম

মামুনুর রশিদ মেরাজুল,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পূর্বদেবু গ্রামের দরিদ্র শাহজাহান মিয়া’র ছেলে আলতাবুল ইসলাম (১৫) নামের এক কিশোর ৩ কবিরাজের ভুল চিকিৎসায় হাসপাতালে কাতরাছেন।রবিবার দুপুরে ওই কিশোর  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ  ভর্তি চিকিৎসা নিচ্ছেন। জানাগেছে,  জ্বীন ও কালী ছাড়াতে শনিবার দিবাগত  গভীর রাত পর্যন্ত আলতাবুল ইসলাম (১৫) কে  ঘরের মধ্যে আটকে রেখে জ্বলন্ত আগুনের ছেকা ও হাতে-পায়ে সুচ ঢুকিয়ে এবং হাত-পায়ের তালুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম কাপড় দিয়ে দগ্ধ করে ছেকাদিয়ে নির্যাতন চালান কবিরাজ  রানা খান পাশা, নুরুল  ইসলাম নুরু ও মিন্টু মিয়া। তারা তিনজনই  ৫০ হাজার টাকা চুক্তিতে এই চিকিৎসা চালান বলে জানাগেছে।  আরোও জানাগেছে, একবছর আগে  আলতাবুল ইসলাম টাইফয়েডে আক্রান্ত হন এবং রংপুর শহরে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নিকট চিকিৎসা গ্রহন করে সুস্থ্য হবার পর কিশোর আলতাবুল ইসলাম চলাফেরা ও কথাবার্তায় অস্বাভাবিক আচরন করতে থাকলে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করা হয়। ক’দিন আগে পার্শ্ববর্তি পশ্চিমদেবু গ্রামের মতিন মিয়ার ছেলে রানা খান পাশ, মন্টু মিয়ার ছেলে নুরুল  ইসলাম নুরু ও মনু মিয়ার ছেলে মন্টু মিয়া নিজেকে কবিরাজ পরিচয় দিয়ে আলতাবুলদের বাড়িতে যায়। তারা আলতাবুলের পিতা শাহজাহান মিয়াকে জানায় তার ছেলেকে জ্বীন ও কালী ধরেছে। ভরন (ঝাড়-ফুক) না দিলে ভাল হবেনা। এজন্য তারা ৫০ হাজার টাকা দাবী করেন। পরে ওই কবিরাজরা রবিবার রাতে শাহজাহানের বাড়িতে গিয়ে বাড়ির লোকজনে বাহির করে দেয় এবং অসুস্থ্য আলতাবুল ইসলামকে একটি ঘরের ভিতরে নিয়ে ভরন (ঝাড়-ফুক) দেয়। গভীর রাত পর্যন্ত কবিরাজের দলটি অসুস্থ্য আলতাবুলকে সুসস্থ্য করার নামে অপচিকিৎসা চালাতে থাকে। রাত আড়াইটার দিকে অসুস্থ্য আলতাবুলের চিৎকার সহ্য করতে না পেয়ে স্থ্নাীয় লোকজন ঘরের দরজা ভেঙ্গে রক্তাক্ত অবস্থায় জ্বলন্ত আগুনের কুন্ডলীর উপর থেকে আলতাবুলকে উদ্ধার করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে চিকিৎসাধীন কিশোর আলতাবুল স্থানীয় সংবাদ কর্মীদের জানায়, জ্বীন ও কালী ছাড়ানোর নাম করে ওই ৩ কবিরাজ রাত ভর বন্ধ ঘরের ভিতরে তার উপর অমানুষিক নির্যান চালিয়েছে। মুখে টেপ লাগিয়ে দিয়ে পানি পড়া, তেল পড়া ছিটিয়ে ঘরের মেঝেতে জ্বলন্ত আগুনের কুন্ডলীর উপর তাকে শুইয়ে দেয় এবং হাত ও পায়ের নখের ভিতর সুচ ঢুকিয়ে দেয়। এরপর কবিরাজ রানা খান পাশা বিভিন্ন মন্ত্র পাঠ করে লাল টকটকে গরম কাস্তে দিয়ে তার দুই হাতের তালু, পায়ের তালু, পুরুষ লিঙ্গ, পিঠ ও বুকে ছেকা দিয়ে দগ্ধ করে। আলতাবুল আরো জানায়, এসময় সে মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকেন। কবিরাজদের অপচিকিৎসার একপর্যায়ে মুখের টেপ খুলে গেলে সে চিৎকার করতে থাকেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানায়, আলতাবুলকে গুরুত্বর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা পুড়ে যাওয়ায় তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার অবস্থা আশংকা জনক।
পীরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি পুলিশ পাঠান। ভন্ড কবিরাজরা পালাতক থাকায় তাদের আটক করা যায়নি

পুরোনো সংবাদ

রংপুর 7637764875344027515

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item