সৈয়দপুরে কোচিং ফি’র টাকা আদায়ের জন্য এসএসসি পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র আটকে রাখার অভিযোগ

তোফাজ্জল হোসেন লুতু,সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি 

সৈয়দপুরে বিদ্যালয়ের কোচিং ফি’র টাকা আদায়ের জন্য এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সৈয়দপুর তুলশীরাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ করা হয়েছে। আর সকল প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষার একদিন আগেও পরীক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র হাতে না পেয়ে  চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের এ ধরনের আচরণে পরীক্ষার্থীদের অভিভাবক মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সারাদেশে একযোগে ২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা - ২০১৭ শুরু হচ্ছে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সৈয়দপুর উপজেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীনতম তুলশীরাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে দুই গ্রুপে ৫৫ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। তন্মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ২১জন এবং মানবিক বিভাগে ৩৪জন পরীক্ষার্থী। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংর্বধনাও দেয়া হয়। নিয়মানুযায়ী বিদায় সংবর্ধনা দেয়ার দিনেই পরীক্ষার্থীদের হাতে পরীক্ষার প্রবেশপত্র তুলে দেয়ার কথা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। কিন্তু সৈয়দপুর তুলশীরাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই দিন তাদের পরীক্ষার্থীদের হাতে প্রবেশপত্র দেননি। কোচিং ফি আদায়ের জন্য পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আটকে রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। পরবর্তীতে পরীক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে কয়েক দিন ধর্ণা দিলেও প্রবেশপত্র  পাননি। এ সময় বিদ্যালয় থেকে তাদের সাফ জানিয়ে দেয়া হয় পুরো কোচিং ফি পরিশোধ না করলে প্রবেশপত্র দেয়া হবে না। এ অবস্থায় অনেক দরিদ্র ঘরের পরীক্ষার্থীরা চরম বেকায়দায় পড়েছে।
  এবারে ওই বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগের পরীক্ষার্থী মোছা. ইরাম। তাঁদের বাসা  সৈয়দপুর শহরের চাঁদনগর আলম লেনে। তাঁর বড় ভাই গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মো. মুরাদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন আমার ছোট বোন মোছা. ইরাম ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে ওই বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে। এবারে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের আগে থেকে বিদ্যালয়ে কোচিং ক্লাস চালু করা হয়। তিন মাস কোচিং ফি বাবদ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার্থী প্রতি ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করে। ওই পরিমাণ টাকা কোচিং ফি দিয়ে বোনকে কোচিং করাতে অপরাগতা প্রকাশ করি। কিন্তু সে সময় আমি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে বলেছিল কোচিং ফি দিতে হবে না। তাদের কথা মতো আমার বোন বিদ্যালয়ে কোচিং করে। এখন আবার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৪ হাজার টাকা কোচিং ফি দাবি বসেছেন। তিনি বলেন, আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। বর্তমানে আমার বাবা মো. ইসলাম একজন বৃদ্ধ মানুষ। নিজে ঠিকভাবে চলাফেরাও করতে পারেন না। তাই পুরো পরিবারের দায়িত্ব আমার কাধে পড়েছে। আমার সামান্য ব্যবসার আয়-রোজগার দিয়ে গোটা পরিবারের ভরণপোষন করাসহ তিনি বোনকে লেখাপড়া করাচ্ছি। আমি এখন কোথা থেকে বিদ্যালয়ের দাবিকৃত ৪ হাজার টাকা কোচিং ফি দিব ? তারপরও আমি এক হাজার টাকা সংগ্রহ করে কোচিং ফি দিয়ে আমার মাকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছিলাম। আমার ছোট বোনের প্রবেশপত্র আনতে। কিন্তু  বিদ্যালয় থেকে আমার মাকে প্রবেশপত্র না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন আমি কি কবর ভেবেচিন্তে পাচ্ছিনা। আর একদিন পরই এসএসসি পরীক্ষা শুরু। এদিকে প্রবেশত্র হাতে না পেয়ে আমার বোন মারাত্মক চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। সে লেখাপড়ায়ও ঠিকভাবে মনোযোগ দিতে পারছেন না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমিনুর রহমান কোচিং ফি আদায়ের জন্য পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আটক করে রাখার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সাংবাদিককে পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন আমি কি পরীক্ষাথীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের প্রবেশপত্র দিয়ে আসব। এটি কি আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে ? বিদ্যালয়ের শ্রেণী শিক্ষককের কাছে প্রবেশপত্র দেয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে প্রবেশপত্র নিয়ে যাবে ।

পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 7614120723232447882

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item