মৃত্যুর আগে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে চান শ্রী ভারত চন্দ্র রায়।


মো: শামীম হোসেন বাবু, কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী।
তখন যৌবনকাল, ১৯৭১ সাল। মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে দেশ মাতৃকাকে মুক্ত করার জন্য ঝাপিয়ে পড়েন মক্তিযুদ্ধে। অকুতোভয় লড়াকু সেই মুক্তিযোদ্ধা শ্রী ভারত চন্দ্র এখন জীবনযুদ্ধে পরাজিত। তিনি গত প্রায় ৫ বছর ধরে রোগ শোকে শয্যাশায়ী। মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তালিকাভুক্ত করা হয়নি তাঁকে। জীবনের এই শেষ সময়ে এসে তার চাওয়া, বঙ্গবন্ধুর কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন তাঁকে মৃত্যুর আগে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তার নামটি অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি মরতে চান মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। মৃত্যুর পরে যেন লাল সবুজের পতাকায় তাঁকে সম্মান জানানো হয়।

শ্রী ভারত চন্দ্র রায়ের বাড়ি নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের উত্তর সিঙ্গেরগাড়ী গ্রামে। চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ২১ বছরের টগবগে যুবক। তার জন্ম ১৯৫০ সালের ১২ ই জানুয়ারী। লেখাপড়া খুব একটা জানেননা। কিন্তু স্বরণশক্তি ছিল প্রখর। বাবা ছিলেন কৃষক। তিনি বাবার সাথে মাঠে যেতেন কাজ করতে। ১৯৭১ সালে তার বাবাকে না জানিয়ে তিনি দেশের টানে বন্ধু মাধব চন্দ্র রায়ের সাথে ভারতের মুজিব ক্যাম্পে ২৮ দিন প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারতের টাপুরহাট ইউথ ক্যাম্পে যোগদান করেন। এসময় তিনি থ্রি এফ থ্রি, মারফর ওয়ান, জি এফ রাইফেল সহ বিভিন্ন অস্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরে ৬ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক এম খাদেমুল বাশারের নেতৃত্বে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ভারতের টাপুরহাট হয়ে পরবর্তীতে লালমনিরহাট ও মোঘলহাটের অধীনে পাগলা তালতলা, হাড়িরধাম সহ বিভিন্ন জায়গায় যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। যুদ্ধকালীন সময়ে তার ট্রপস কমান্ডার ছিলেন মোজাফফর হোসেন। সেকশন কমান্ডার ছিলেন ইলিয়াস উদ্দিন ও প্লাটুন কমান্ডার ছিলেন তাজির উদ্দিন।
দেশ শত্রুমুক্ত হওয়ার পর ১৯৭২ সালের জানুয়ারী মাসে বাংলাদেশ স্বসস্ত্র বাহিনীর অধিনায়ক মোহাম্মদ আতাউল গণী ওসমানীর কাছে রংপুর জেলার কেল্লাবন্দে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দেন।
মুক্তিযোদ্ধা শ্রী ভারত চন্দ্র রায় জানান, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ে অনেক আবেদন নিবেদনের পরও কোনো কাজ না হওয়ায় তিনি তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে দুঃখ ও ক্ষোভে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে তার সহযোদ্ধা ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধার পরামর্শে ২০১৪ সালের মে মাসের ২৫ তারিখে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে আবেদন দাখিল করেন। তার এফ এফ নম্বর ১২৬/১৮, সেক্টর নম্বর ০৬, ডিজিআই নম্বর ১৭৭০৫৮। তিনি বর্তমানে স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি তার মৃত্যুর আগে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। শ্রী ভারত চন্দ্রের বিষয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কিশোরগঞ্জ উপজেলা শাখার কমান্ডার হাবিবুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারী ২০১৭ যাচাই বাছাই চলবে। যাচাই বাছাই করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হবে।

পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 2792583571247289432

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Logo

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item