আজ রাণীশংকৈলের প্রয়াত এমপি আলী আকবরের ২৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী

সফিকুল ইসলাম শিল্পী, ঠাকুরগাঁও ঃ
আজ ৪অক্টোবর পালিত হচ্ছে ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলার সন্ধারই গ্রামের মরহুম আলি আকবর এমপি’র  ২৩ তম মৃত্যু বার্ষিকী। দিন ব্যাপী মসজিদ-মন্দির, উপজেলা আ’লীগ কার্যালয়, রানীশংকৈল ডিগ্রী কলেজ, নেকমরদ মাজারে মিলাদ, গবিন্দ মন্দিরে প্রার্থনা, কেন্দ্রীয় টাউন ক্লাব সহ উপজেলার প্রায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পালিত হতে যাচ্ছে প্রয়াত নেতা আলী আকবরের জন্য দোয়া প্রার্থনা।

প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম হলেও এই মহান নেতা আ’লীগের নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য হিসেবে ১৯৭৩ সালে নির্বাচিত হন। তৎকালীন রাজনীতি মেধাক্রমে বঙ্গবন্ধু পার্লামেন্টারী নৌকা প্রতীকে নমিনেশনের মাধ্যমে মহান সংসদে প্রথম সারিতেই এসেছিলেন আলী আকবর। রাজনৈতিক কদর আর ভালোবাসায় বঙ্গবন্ধু একজন সৎ যোগ্য এমপি হিসাবে আলী আকবরকে বেছে নেন। তার প্রমাণ হিসাবে ১৯৭৪ সালে বাঙ্গালী মানুষের দুর্ভিক্ষের সময় বঙ্গবন্ধু পুর্নবাসন কার্যক্রমের রাষ্ট্রীয় ৬০০০ টাকা অতিরিক্ত অবশিষ্ট থাকলে তিনি নিজে বঙ্গবন্ধুর হাতে জমা দেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু রীতিমত অবাক  হয়ে যান! আস্থা ফিরে পান প্রয়াত নেতা আলী আকবরের উপর। তিনি ১৯৫১ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা স্কুল থেকে সে সময় এস.এস.সি পাস করেন এবং দিনাজপুর সুরেন্দ্র নাথ কলেজে ভর্তি হন। গ্রাজুয়েশন করে বের হন ১৯৫৮ সালে বাবা নফিজ উদ্দীন সরকারের কাছে ফিরে আসেন। চাকরী তার পছন্দ তেমন ছিলনা। মানুষের সেবা করাকে বেছে নিয়েছিলেন মন থেকে। তৎকালীন সময়ে মা রাবেয়া খাতুন পরিবারে শিক্ষিত মহিলা হিসাবে বিবেচিত ছিলেন। বিবেচনায় একজন মহান পুরুষের মা হিসেবে এলাকায় রাবিয়া খাতুনের কদরের ছিল যথেষ্ঠ। পরিবারে আলী আকবর এমপি ছিল অত্যান্ত আদরের সন্তান। নানা ডাঃ দেলেম আলীও কম নন। বালিয়াডাঙ্গী বিখ্যাত পরিবারে নানার বাড়িতেই সে সময় একটি আধুনিক লাইব্রেরী ছিল, যা এখনও বিদ্যমান। নানা দেলেম আলী ভারত বর্ষের আজাদ হিন্দ ফৌজ এর ভারত বর্ষের যুব ফ্রন্টের সেক্রেটারীর দায়েত্বে ছিলেন এবং ভারত বর্ষের  সুভাস চন্দ্র বসু ছিলেন সভাপতি। আলী আকবার প্রথম শ্রেণীর সামাজিক বন্ধনে বড় হয়ে উঠেন। পারিবারিক ভাবে আলী আকবর জমিদার ছিলেন এতে কোন সন্দেহ নেই। জানা গেছে প্রায় ২৬ শত  বিঘা জমি দেখভাল করতেন। রাণীশংকৈল জমিদার রাজা টংকনাথ ঠাকুররের উপর তিন বার মামলা করেছিলেন বাবা নফিজ উদ্দীন সরকার জরাজীর্ণ রাজবাড়িটি এখনও মালদোয়ার নামক স্থানে বিদ্যমান। হাজার মানুষ এই মরহুম এমপি আলী আকবরের ভালোবাসায় ছিল অন্ধ। নৌকা প্রতীকে বার বার ভোট দিয়ে আসছিলেন। তার কাছে ছিলনা কোন ভেদাবেদ স্মরণ শক্তি ছিল তার ঐশ্বরীক একবার কথা বলেই জানতে পারতেন সাধারণ মানুষ কি চায় কিংবা তার উদ্দেশ্য বা কী? রাগী মানুষদের শান্ত হয়ে সমাধান দিতেন দুই পক্ষকেই সমঝতার মাধ্যমে।  হিন্দু মসলিম কোন ভেদা ভেদ না রেখে সব শ্রেণীর মানুষের সাথে ছিল তার অঘাত ভালোবাসা। নাম ধরে কিংবা সম্বোধণ করে কৌতুকের ছলে ডেকে আলাপ করতেন যে কারো সাথেই। এত মধুর সম্পর্ক তাৎক্ষনিক তৈরি করতে পারতেন যাতে সব কিছুই তার আয়ত্বে থেকে যেতো সারা জীবন। এভাবেই ভালোবাসায় মানুষকে জড়িয়ে ফেলতেন তিনি। পারিবারিক জীবনে তেমন কিছু রেখে না গেলেও এই পরিবারটি বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত একটি পরিবার। অত্যন্ত সুনামের সাথে ৪ ছেলে ৪ মেয়ে সবাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বড় ছেলে সাবেক চেয়ারম্যান, বড় মেয়ে মাননীয় সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি- সেলিনা জাহান লিটা, ছোট দুই মেয়ে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। ছোট ছেলে আমেরিকা বাংলাদেশ এমবাসির সহকারী কাউন্সিলর হিসেবে চাকরী করছেন। বর্তমান রাজনীতির মাঠে সেলিনা জাহান লিটা এমপি ছুটে চলছেন মানুষের সেবার উদ্দেশ্যে। গণসংযোগ আর ছুটে চলা এমপি লিটা বাবার রাজনৈতিক সুনাম ও খ্যাতিকে বুকে লালন করে এগুতে চান এমন প্রত্যাশা করেন তিনি।

আলী আকবর ১৯৯৩  সালের ৪ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। গ্রামের বাড়িতেই ঈদগাহ মাঠের সাথে রাস্তার পাশে তাকে সমাধি করা হয়েছে। তার বড় ছেলে এখলাসুর রহমান লিটন জানান পিতা হিসেবে তিনি ছিলেন অনন্য। তার মৃত্যুর ২৩ টি বছর পেরিয়ে গেলেও এলাকার মানুষ যেমন ভুলতে পারেননি ঠিক আমরাও ভুলতে পারিনি আজো। 

পুরোনো সংবাদ

ঠাকুরগাঁও 152850074197854315

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item