তিস্তার ভাঙ্গন অব্যাহত

ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়, নীলফামারী ১৮ জুলাই॥
   তিস্তা নদীর বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। আজ সোমবার ডিমলা উপজেলা টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নে নতুন করে আরও ৩০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এর আগে ওই ইউনিয়নে ২৮১ পরিবারের ঘরবাড়ি তিস্তা নদী ভাঙনে বিলীন হয়।
  ডিমলা উপজেলার ডালিয়ায় অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পুর্বাভাস ও সতর্কিকরণ কেন্দ্র সুত্র মতে লালমনিরহাট জেলার দোয়ানীতে অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ পয়েণ্টে তিস্তা নদীর পানি সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিপদসীমার ১২ সেণ্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত রোববার ওই পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১৭ সেণ্টিমিটার ওপরে উঠে। 
 তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি, জলঢাকা উপজেলার, গোলমু-া, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের তিস্তা নদী বেস্টিত প্রায় ১৫টি গ্রামের ১০ সহ¯্রাধীক  পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েন।
সোমবার তিস্তার পানি কিছুটা কমলেও ওইসব এলাকায় এখনো পানি রয়েছে বলে জানান জনপ্রতিনিধিরা।
  ডিমলা উপজেলার টেপাখড়বাড়ি ইউনিয়নের চারটি ওয়ার্ডের চরখড়িবাড়ি, পূর্বখড়িবাড়ি, টাপুরচর, ঝিঞ্জিরপাড়া ও মেহেরটারী গ্রামে প্রায় একমাস ধরে চলছে নদী ভাঙন।
চরখড়িবাড়ি গ্রামে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বালির বাঁধটি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে সোমবার পর্যন্ত সেখানকার ৩১১টি পরিবারের বাড়িঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।
  ওই ইউনিয়নের  মধ্য চরখড়িবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি ভবনের অর্ধেক করে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে, বিলীন হয়েছে চারটি ছোট বড় সেতু, নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে টেপাখড়িবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮১ ফিট আধাপাকা ভবন, হুমকির মুখে আছে দুই নম্বর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জিঞ্জিরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাবুপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, একতা বাজার, দুটি কমিউনিটি ক্লিনিক, একটি বিজিপি ক্যাম্প এবং দেড় সহ¯্রাধীক পরিবারের বাড়িঘর।
টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, বালির বাধটি ভেঙে যাওয়ার কারনে তিস্তা নদী গতি পরিবর্তণ করে ওই এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন গতকাল সোমবার আরও ৩০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এ নিয়ে ৩১১টি পরিবারের ঘরবাড়ি  নদী গর্ভে বিলীন হলো। ভাঙন অব্যহত আছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন,  ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারীভাবে ১৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ভাঙন অব্যহত থাকায় অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাচ্ছেন। 
ডিমলা উপজেলার পুর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, তিস্তা নদীর পানি কিছুটা কমলেও ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের প্রায় এক হাজার পরিবারের বাড়িঘরে পানি আছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান বলেন সোমবার বিকেল ৩টায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১২সেণ্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, পানি কিছুটা কমলেও বিচ্ছিন্নভাবে  ভাঙন অব্যহত আছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ্যদের জন্য নতুন করে ২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বেশি হওয়ায় সেখানে ১৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

পুরোনো সংবাদ

প্রধান খবর 4997267752505733036

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Logo

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item